
দলিল সম্পাদনে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ।।
স্টাফ রিপোর্টার:
জনগণের ধাওয়া খেয়ে ভোঁ দৌড় দিয়ে প্রাণে বেঁচে গেছেন রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা সাব-রেজিষ্টার খায়রুজ্জামান মন্ডল। পরে তাকে ধরে নিজ কার্যালয়ের ভেতর ৩ ঘন্টারও বেশি সময় অবরুদ্ধ করে রাখে বিক্ষুদ্ধ জনতা। জমির দলিল সম্পাদনে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে জনসাধারন এ ঘটনা ঘটায়। গতকাল রবিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসি সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা সাব রেজিষ্টার খায়রুজ্জামান মন্ডল প্রত্যেক দলিল সম্পাদনে তার স্বাক্ষর করা বাবদ দেড় থেকে দুই হাজার টাকা ঘুষ গ্রহন করেন। ঘুষের টাকা না দিলে দলিল সম্পাদন হয় না। আর এই টাকা জমির ক্রেতার কাছে দলিল লেখকদের মাধ্যমে নিয়ে থাকেন তিনি। এ নিয়ে জমির ক্রেতা-বিক্রেতা ও দলিল লেখকদের মাঝে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
রবিবার ক্রেতা-বিক্রেতা ও দলিল লেখকদের সাথে সাব রেজিষ্টারের এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। দুপুরে জমির ক্রেতা-বিক্রেতা ও এলাকাবাসি সাব রেজিষ্টারের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। তারা ঘুষ নেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এভাবে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সেখানে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন সাব রেজিষ্টার। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিকেল ৩টায় সাব রেজিষ্টার খায়রুজ্জামান কার্যালয় থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায়। কার্যালয়ের বাইরে একটি বাড়িতে ঢুকে পড়েন। সেখান থেকে উত্তেজিত জনতা তাকে ধরে আবারও কার্যালয়ে নিয়ে যায়। সেখানে আবারও অবরুদ্ধ রাখে।
পরে, দলিল লেখক সমিতির নেতাদের মধ্যস্থ্যতায় বিকেল ৩টার পর বৈঠক বসে। বৈঠকে আর ঘুষ নেবেন না বলে জনসাধরনের কাছে প্রতিশ্রæতি দেন তিনি। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
দলিল লেখক সমিতির সহ-সভাপতি আল আমিন সরকার মানিক বলেন, ভুল বোঝাবোঝি হয়েছিল। পরে বিষয়টি মিটমাট করা হয়েছে। এখন সুষ্ঠুভাবে দলিল সম্পাদনা করা হচ্ছে।’
উপজেলা সাব রেজিষ্টার খায়রুজ্জামান মন্ডল বলেন, ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। ভুয়া খাজনা খারিজসহ অন্যান্য কাগজপত্র সংযুক্ত করে দলিল সম্পাদনার চেষ্টা করা হচ্ছিল। কিন্তু সেটা করতে না দেওয়ায় এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে।’
এম২৪নিউজ/আখতার