মিঠাপুকুরে দুই স্কুলছাত্রীকে অজ্ঞান করে অপহরণের চেষ্টা, নারী আটক

স্টাফ রিপোর্টার (মিঠাপুকুর):

মিঠাপুকুরে নবম শ্রেণির দুই ছাত্রীকে অজ্ঞান করে অপহরণ চেষ্টার অভিযোগে এক নারীকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা ও শিক্ষার্থীরা । উপজেলার শুকুরেরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে রবিবার এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সোমবার মিঠাপুকুর থানায় একটি মামলা হয়েছে।

এলাকাবাসি ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার ময়েনপুর ইউনিয়নের শুকুরেরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে রোববার বিরতি চলার সময় নবম শ্রেণির ছাত্রী ফুলচৌকি গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে মিমি আক্তার (১৪) এবং তার সহপাঠি চেংমারী গ্রামের আতোয়ার রহমানের মেয়ে আঁখি মণি (১৪) মাঠে গল্প করছিল। এসময় বিদ্যালয়ের পাশে ভাড়া বাড়িতে বসবাসকারী হোসেন আলীর মেয়ে স্বামী পরিত্যাক্তা আসমা বেগম (৩০) ওই ছাত্রীদের কাছে যান। এসময় তার কেমিকেল মেশানো হাত ছাত্রীদের মুখে লাগিয়ে দেন। সঙ্গে সঙ্গে দুই ছাত্রী অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। আশপাশের লোকজন ও ছাত্রীদের সহপাঠিরা এগিয়ে এসে তাদেরকে উদ্ধার করে মিঠাপুকুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। সেখানে অবস্থার অবণতি হলে অসুস্থ ছাত্রীদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসাতালে স্থানান্তর করা হয়।

ছাত্রী অপহরণ চেষ্টার অভিযোগে আসমা বেগমকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই নারীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

শুকুরেরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আসমা বেগম স্কুলের ছাত্রীদের অজ্ঞান করে অপহরণ করতে চেয়েছিল। ছাত্রীদের অপহরণ করে খারাপ কাজে ব্যবহার করতো।’

ময়েনপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ওই নারী অসামাজিক কাজে লিপ্ত রয়েছে। তার বিরুদ্ধে বাড়িতে বাইরের নারী-পুরুষ এনে অবৈধ মেলামেলার অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার দিন বিদ্যালয়ের ছাত্রীদেরকে অজ্ঞান করে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক অসামাজিক কাজে ব্যবহার করা হতো বলে আশংকা করা হচ্ছে। এলাকাবাসি ঘটনাটি বুঝতে পেরে ওই নারীকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে।’

অভিযুক্ত আসমা বেগম থানায় আটক থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

মিঠাপুকুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাফর আলী বিশ্বাস বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে ওই নারীকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।