মিঠাপুকুরে ধান কাটার মেশিন কম্বাইন হারভেষ্টার কৃষকের কাছে হস্তান্তর

মোঃ শামীম আখতার:

রংপুরের মিঠাপুকুরে রাণীপুকুর ইউনিয়নের ভক্তিপুর গ্রামের কৃষক মোঃ আল আমিন জুয়েল এর হাতে উন্নয়ন সহায়তা (ভর্তুকি) মূল্যে ধান কাটার মেশিন (কম্বাইন হারভেস্টার) ও চাবি হস্তান্তর করা হয়। শনিবার বিকালে রাণীপুকুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গনে এ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ আসিব আহসান।

কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক খন্দকার আব্দুল ওয়াহেদ এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ ওবায়দুর রহমান মন্ডল, বিএমডিএ এর তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ হাবিবুর রহমান খান, বিএডিসি এর যুগ্ম পরিচালক মোঃ মোফাজ্জল হোসেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মামুন ভূঁইয়া, উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ আনোয়ার হোসেন, রাণীপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শফিকুল ইসলাম রাঙ্গা প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, মিঠাপুকুর কৃষিতে একটি বৈচিত্র্যপূর্ণ উপজেলা। ভর্তুকি মূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ বর্তমান সরকারের একটি যুগান্তকারি পদক্ষেপ। এই যন্ত্র দিয়ে স্বল্প সময়ে স্বল্প খরচে কৃষকের ধান সংগ্রহ করা যায়। এটি সফলভাবে ব্যবহার করতে পারলে কৃষি আরো লাভজনক পেশায় পরিণত হবে। কৃষিকে লাভজনক করতে হলে যন্ত্রের ব্যবহারের কোন বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে কম্বাইন হারভেষ্টার গুরুতপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ভুর্তকি মূল্যে যন্ত্র গ্রহনকারী কৃষাণী তহুরা বেগম বলেন আমরা কৃষি অফিসের সার্বিক সহযোহিতা পাচ্ছি। হাওর অঞ্চলে ৭০% ভর্তুকিতে যন্ত্র সরবরাহ করা হয়। আমাদের অঞ্চলে ৫০% ভর্তুকিতে যন্ত্র সরবরাহ করা হয়। আমরা যারা নারী কৃষাণী তাদেরকে ৫০% ভর্তুকিতে যন্ত্র সরবরাহ করলে আমরা আরো উপকৃত হব।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ইতিমধ্যে মিঠাপুকুর উপজেলায় ৩টি কম্বাইন হারভেষ্টার মেশিন ভর্তুকি মূল্যে কৃষকদের নিকট বিতরণ করা হয়েছে। কম্বাইন হারভেষ্টার মেশিনের মাধ্যমে একইসাথে ধান কাটা, মাড়াই, ঝাড়াই ও প্যাকেটজাতকরণের কাজ হয়। এর মাধ্যমে কাদা মাটি ও পড়ে থাকা ধানও কাটা সম্ভব। চলতি মৌসুমে মিঠাপুকুর উপজেলায় ৩৩,৩৬০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ হয়েছে। লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৩,২৬০ হেক্টর।

মিঠাপুকুর উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, কম্বাইন হারভেষ্টারের মাধ্যমে একজন কৃষক এক ঘন্টায় এক একর জমির ধান একই সাথে কাটা, মাড়াই,ঝাড়াই ও প্যাকেটজাতকরণের কাজ খুব সহজেই করতে পারেন। এক একর জমির ধান কাটতে ডিজেল খরচ মাত্র ৮ লিটার। একদিনে হারভেষ্টার দিয়ে ১০ একর পর্যন্ত জমির ধান কাটতে খরচ হবে মাত্র ১২-১৫ হাজার টাকা। প্রথাগতভাবে সেটি করতে খরচ হবে প্রায় ৯০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা। ফলে, কম্বাইন হারভেষ্টারের মাধ্যমে ১০ একর জমির ধান কাটার মাধ্যমে সাশ্রয় হবে ১৫০ এর বেশি শ্রমিক বা প্রায় ৫৫ হাজার টাকা। যন্ত্রটি কৃষকের দোড়গোড়ায় সহজলভ্য করার জন্য বর্তমান কৃষি বান্ধব সরকার প্রতিটি যন্ত্রে ৫০% ভর্তুকী দিচ্ছে।

তিনি আরো জানান, এ বছর ভতুর্কির আওতায় মিঠাপুকুর উপজেলায় ৩টি কম্বাইন হারভেষ্টার কৃষকদের নিকট সরবরাহ করা হয়েছে এবং এই যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ানো গেলে ফসলের উৎপাদনশীলতা ও কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানো সম্ভব। চলতি বোরো মৌসুমে মিঠাপুকুর উপজেলায় ৩৩,৩৬০ হেক্টর জমিতে প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply