মিঠাপুকুরে পল্লী বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিল, গ্রাহকদের রোষানলে কর্মকর্তা-কর্মচারী

স্টাফ রিপোর্টার:

রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর (শঠিবাড়ী) বহু গ্রাহকের মাঝে আগস্টের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে। জুলাই মাসের দ্বিগুণেরও বেশি বিল এসেছে তাদের। এ নিয়ে হুলস্থুল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে মিঠাপুকুরে। ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের কপি দিতে এসে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মচারীরা। গ্রাহকদের তীব্র তোপের মুখে পড়তে হয়েছে কর্মকর্তাদেরও। এ সময় বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে মিঠাপুকুর উপজেলা সদরের কৃষ্ণপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে অতিরিক্ত বিল পরবর্তী মাসে সমন্বয় করার আশ্বাসে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর (পুকুরপাড়) গ্রামে সাইফুল ইসলামের বাড়িতে বিলের কাগজ দিতে আসেন পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মী (মিটার রিডার) রায়হান মিয়া। এ সময় জুলাই মাসের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি বিল আগস্ট মাসে কেন এসেছে- জানতে চান স্থানীয় গ্রাহকেরা। এর সঠিক উত্তর দিতে না পারায় বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয়রা। এক পর্যায়ে রায়হানকে অবরুদ্ধ করে রাখেন এলাকাবাসী। তারা অতিরিক্ত বিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন।

পরে রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সদর দপ্তর থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তাদেরও তোপের মুখে পড়তে হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় কর্মকর্তারা অতিরিক্ত বিলের টাকা পরবর্তী মাসে সমন্বয় করার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

উপজেলার বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক প্রদীপ কুমার গোস্বামীর জুলাই মাসে বিল এসেছিল ৮৫৩ টাকা। আগস্টে তা দ্বিগুণ হয়েছে। রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ কর্তৃপক্ষ ১৪শ ৬ টাকার বিলের কাগজ ধরিয়ে দিয়েছে তাকে।

আরেক গ্রাহক হাবিবুর রহমানও পড়েছেন একই বিড়ম্বনায়। জুলাইয়ের তিনগুণ বিল এসেছে তার। জুলাইয়ে ২৫৩ টাকা হলেও পরের মাসে হয়েছে এক হাজার ৩ টাকা। জুলাই মাসে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে যেসব বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালিয়েছেন, তারা আগস্টেও একই যন্ত্র চালিয়েছেন। অথচ বিল হয়েছে দ্বিগুণের বেশি। শুধু তারাই নন, মিঠাপুকুর উপজেলার লাখেরও বেশি বিদ্যুৎ গ্রাহকের একই অবস্থা।

উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর (পুকুরপাড়) গ্রামের গ্রাহক আনারুল হকের জুলাইয়ে বিল এসেছিল ৭শ ৫ টাকা। আগস্টে এসেছে ১১৮৫ টাকা। মোহাম্মদ আলীর জুলাইয়ে বিল এসেছিল ৬৮৭ টাকা, আগস্টে ২২১২ টাকা। আলো রানী দাসের জুলাইয়ে ৮৩০ টাকা, আগস্টে ১৯৭২ টাকা।

উপজেলার চেংমারী ইউনিয়নের চেংমারী গ্রামের তৌহিদুল ইসলাম বলেন, জুলাই মাসে বিল এসেছিল ৭৬২ টাকা। আগস্টে ১২৪৮ টাকা বিল পরিশোধের নোটিশ দিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ শঠিবাড়ী। অথচ জুলাই মাসে ৩টি পাখা, বাতি ৫টি, একটি ফ্রিজ ও মটর চালু ছিল।

এ ব্যাপারে রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ (শঠিবাড়ী) সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার হরেন্দ্রনাথ বলেন, মিটার রিডিংয়ে বেশি বিল হয়ে থাকলে তা পরবর্তী মাসে সমন্বয় করা হবে।

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply