মিঠাপুকুরে পেট্রোল বোমা ট্রাজেডির ৫ বছর আজ

যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোল বোমা হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ৬ যাত্রী

স্টাফ রিপোর্টার (মিঠাপুকুর):

মিঠাপুকুরে আলোচিত বর্বোরোচিত বাসে পেট্রোল বোমা হামলার ৫ বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১৫ সালের এই দিনে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের মিঠাপুকুর উপজেলার জায়গীর ফতেপুর নামক স্থানে একটি যাত্রীবাহী নৈশ কোচে পেট্রোল বোমা হামলায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন ৬ জন যাত্রী। মারাত্মক অগ্নিদগ্ধ হয়ে আহত হন ১২ জন। এ ঘটনায় ১৩২ জনের নাম আদালতে দাখিল করেছে পুলিশ। ব্যাপক তদন্ত করে পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনার সাথে জামায়াত-শিবির জড়িত। তবে, আসামী পক্ষের রিটে উচ্চ আদালত এই মামলাটির সকল কার্যক্রম স্থগিত করেছেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসির কথা বলে জানা গেছে, ৫ বছর আগে ২০১৫ সালের ১৪ জানুয়ারী গভীর রাতে কুড়িগ্রামের উলিপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী খলিল এক্সক্লুসিভ এর একটি নৈশ কোচ (ঢাকা-মেট্রো-ব-১১-৬৮৬০) মিঠাপুকুর উপজেলার জায়গীর ফতেপুর নামক স্থানে পৌঁছামাত্র দুর্বৃত্তরা পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে। এতে ঘটনাস্থলেই নারী ও শিশুসহ ৬ জন যাত্রী মারা যান। মারাত্মক অগ্নিদগ্ধ হন ১২ জন। হতাহতদের অধিকাংশই কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা। মিঠাপুকুর থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুর রাজ্জাক বাদী হয়ে এই ঘটনায় ৮৭ জন নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাত ৪০/৫০ জনের নামে সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ (সংশোধনী ২০১২) এর ৬/১২ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার নম্বর- ১৯, তারিখ- ১৪/০১/২০১৫ইং। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিঠাপুকুর থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নজরল ইসলাম ১৩২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। পরবর্তীতে আসামী পক্ষের রিটে উচ্চ আদালত মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন।

বোমা হামলার ঘটনায় হতাহতদের উদ্ধার কাজে অংশ নেওয়া ওই সময়ের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, এখনও সেই রাতের মর্মান্তিক দৃশ্যের কথা মনে হলে গা শিউরে উঠে। চোখ দিয়ে পানি ঝরে। আমরা যখন হতাহতদের উদ্ধার করে হাতপাতালে পাঠাচ্ছিলাম, তখন ঘন কুয়াশার মাঝেও দেখা গেছে ঘটনাস্থল থেকে একটু দুরের পুকুর থেকে অগ্নিদগ্ধ মানুষ ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে উঠে আসছে। তাদের পরণে কোন বস্ত্র ছিল না। অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় তারা জীবন বাঁচানোর জন্য ঘন কুয়াশার মাঝেও পুকুরে লাফ দিয়েছিল।’ বোমা হামলায় হতাহতদের পরিবারসহ মিঠাপুকুর উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ বোমা হামলায় জড়িতদের কঠিন শাস্তি দাবি করেছেন।

মিঠাপুুকুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাফর আলী বিশ্বাস বলেন, ‘চার্জশিট ভূক্ত ১৩২ জনের মধ্যে প্রায় সবাইকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। অনেকেই স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিন নিয়েছেন। আসামীরা জামিনে রয়েছেন। বর্তমানে মামলার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। চালু হলে আসামীদের গ্রেফতারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’