মিঠাপুকুরে নার্সের বাসায় নিয়ে ডেলিভারি, নবজাতকের মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার:

রংপুরের মিঠাপুকুরে গর্ভবতী নারীকে হাসপাতাল থেকে কৌশলে নার্সের বাসায় নিয়ে ডেলিভারির সময় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ (নার্স) দুলালী বেগমের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, এক সপ্তাহ আগে কাফ্রিখাল ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের এক গর্ভবতী নারী চেকআপের জন্য মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে সিনিয়ন স্টাফ দুলালী বেগম তাকে জানান, প্রসব বেদনা উঠলে যেন সরাসরি তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। শনিবার সন্ধ্যায় ওই গর্ভবতী নারী প্রসব বেদনা শুরু হলে স্বজনরা দুলালী বেগমের কাছে যান। পরে দায়িত্বে থাকা এই নার্স নরমাল ডেলিভারির কথা বলে কৌশলে রোগীকে তার নিজ বাসায় নিয়ে যান। সেখানে ডেলিভারির সময় চিকিৎসারত অবহেলার কারণে নবজাতকের মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান, এর আগেও নার্স দুলালী বেগমের বিরুদ্ধে নিজ বাসায় অবৈধ গর্ভপাত ও ঝুঁকিপূর্ণ ডেলিভারি করানোর অভিযোগ উঠেছিল। তবে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ভুক্তভোগীর স্বামী রিয়াজুল ইসলাম (রাজু মুন্সী) বলেন, নার্স বলেছেন তিনি সিজার ছাড়াউ ডেলিভারি করাবেন। এতে খরচও কম হবে। এজন্য প্রসব ব্যথা উঠলে তার সাথে যোগাযোগ করতে বলেছেন। শনিবার সন্ধায় ব্যথা উঠলে যোগাযোগ করে আমার স্ত্রীকে তার কাছে নিয়ে যাই। কিন্তু আমার বাচ্চাটি মারা যাওয়ার বিষয়টি মানতে পারছি না।

অভিযুক্ত নার্স দুলালী বেগম বলেন, সে আমার আত্মীয়, তাই আমি ডেলিভারি করেছি। বাচ্চাটি পেটেই মারা গেছে। তবে বাসায় ডেলিভারি করানো আইনসঙ্গত কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো উত্তর দেননি।

মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমিও শুনেছি। দুলালী বেগম একজন সিনিয়র নার্স এবং আমাদের স্টাফ। তবে তার দায়িত্ব ডায়াবেটিস রোগীদের সেবা দেওয়া, প্রসূতিদের সেবা প্রদান করা তার কাজ নয়। উনি বাসায় এমন কর্মকান্ড লিপ্ত আছেন এ বিষয়েও শুনেছি। এটি ঝুঁকিপূর্ণ একটি কাজ। যদি অভিযোগ পাই, অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply