মিঠাপুকুরে ১০ দিনে ১৬টি গরু চুরি, গ্রেফতার ৩

স্টাফ রিপোর্টার:

রংপুরের মিঠাপুকুরে গত ১০ দিনে ১৬ টি গরু চুরি যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এমন ঘটনায় এলাকাবাসীর মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ইতিমধ্যে গরু চোর চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

তারা হলেন- উপজেলার লতিবপুর ইউনিয়নের পাইকান গ্রামের সাকাত আলীর ছেলে বাহাদুর মিয়া, একই গ্রামের সেরাজুল মিয়ার ছেলে শাকিল মিয়া ও রানীপুকুর ইউনিয়নের মোলং হাট নয়াপাড়া গ্রামের ইব্রাহিম মিয়ার ছেলে রিপুল মিয়া। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার লতীবপুর ইউনিয়নের পাইকান এলাকায় তাদেরকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দেয় স্থানীয় জনতা।

এলাকবাসি সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ভোররাতে উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের কৃষক আবদুল কাদের মিয়ার ২টি, তার ছেলে আহসান হাবিব আপেলের ২টি এবং একই গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা ছায়মা বেগমের ৫টি গরু চুরি হয়। একই রাতে উপজেলার রানীপুকুর ইউনিয়নের মোলংহাট নয়াপাড়া গ্রামের শাহাজাদা মিয়ার ১টি গরু চুরি হয়। এরআগে মঙ্গলবার রাতে উপজেলার লতিবপুর ইউনিয়নের হাতিমপুর গ্রামের দুদু ফকিরের ৪টি গরু চুরি করে নিয়ে যায় সংঘবদ্ধ চোরের সদস্যরা। এর ৮দিন আগে একই গ্রামের আরও এক কৃষক বাবলু মিয়ার ২টি গরু চুরি হয়ে যায়।

গরু চুরি বেড়ে যাওয়ার কারণে উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের কাশিপুর, লতীবপুর ইউনিয়নের মামুদপুর, হাবিবপুর, পাইকান, রাণীপুকুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া, লতিবপুর, আফজালপুর, জলছত্তর, নাসিরাবাদসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের কৃষকরা রাত জেগে গরু পাহারা দিচ্ছেন।

আফজালপুর গ্রামের কৃষক সজিব মিয়া বলেন, অল্প কয়েকদিনের ব্যবধানে বেশ কয়েকটি গরু চুরি হয়েছে। এলাকায় গরু চুরির আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কয়েকজন মিলে গরু চুরি প্রতিরোধে গ্রামের প্রবেশপথে রাতে পাহারার ব্যবস্থা করেছি।

নাসিরাবাদ গ্রামের কৃষক সুমন মিয়া বলেন, গরু চুরি যাওয়ার আতঙ্কে বর্তমানে কৃষকরা রাত জেগে গরু পাহারা দিচ্ছে। এ অবস্থায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদারের দাবি জানান ওই কৃষক।

মিঠাপুকুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাফর আলী বিশ্বাস বলেন, গরু চোর চক্রের তিন সদস্যকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য চোরদের গ্রেফতারে জোরালো অভিযান অব্যাহত আছে।

এম২৪নিউজ/আখতার।