
নিউজ ডেস্ক:
মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়াগাছে অটোচালক হাফিজুর রহমান (১৮) হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে রংপুর ডিবি পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ৫ আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার খোড়াগাছ ইউনিয়নের উত্তরপাড়া পাঁচঘরিয়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের আম বাগানে চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারী রংপুর নগরীর কেরানীপাড়ার আলম মিয়ার ছেলে মো. হাফিজুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় থানায় মামলা হলে তদন্ত শুরু করে মিঠাপুকুর থানা পুলিশ। মামলার অগ্রগতি না হওয়ায় গত ২১ জুন রংপুর পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকারের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা শাখায় মামলাটি স্থানান্তর করা হয়। গোয়েন্দা বিভাগের এসআই মনিরুজ্জামান তথ্য প্রযুক্তির সহযোগিতায় হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ৫ আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সেই সাথে উদ্ধার করা হয় লুণ্ঠিত অটোরিকশাটি।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, রংপুর নগরীর সাতগাড়া সবুজপাড়া গ্রামের মো. ফরহাদ হোসেন, দূর্গাপুর বড়বাড়ি গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর আলম ওরফে কলক, অটোরিকশা ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে জড়িত গুড়াতিপাড়া গ্রামের সাজেদুল ইসলাম সাজু, মিঠাপুকুরের ভাংনী বাজার এলাকার মো. সুলতান মিয়া ও সংগ্রামপুরের সোহেল রানা ওরফে বাবু।
হাফিজুর রহমান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ৫ আসামি সোমাবার (১০ আগস্ট) রংপুর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিঠাপুকুর আদালতে তোলা হলে বিচারক ফজলে এলাহীর কাছে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বর্ণনায় আসামিরা বলেন, ২০ ফেব্রুয়ারি ফরহাদ, সুলতান ও কলক ৩ বন্ধু বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরতে যান। এক পর্যায়ে তারা অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে যান। সেখানে হাফিজুরের অটোরিকশায় করে রংপুর নগরী থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে মিঠাপুকুর খোড়াগাছ ইউনিয়নের নির্জন জায়গায় যায়।
পথের মধ্যে তারা হাফিজুরকে অবচেতন করার জন্য গোপনে কোমল পানীয়র সাথে ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে খাইয়ে দেয়। এতে হাফিজুর কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। খোড়াগাছ ইউনিয়নের নির্জন রাস্তায় চার্জার অটো রেখে তারা হাফিজুরকে পার্শ্ববর্তী আমবাগানে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করে ছিনতাই করে।
রংপুর জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার আশরাফুল আলম বলেন, মামলাটি ডিবিতে স্থানান্তর করার পর আমরা দ্রুততার সাথে মামলাটি নিষ্পত্তি করতে সক্ষম হয়েছি। রংপুর জেলার বিভিন্ন অপরাধ দমনে কাজ করে যাচ্ছে ডিবি পুলিশ। এ জেলা থেকে অনিয়ম, অপরাধ নির্মূলে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
এম২৪নিউজ/আখতার।