মিঠাপুকুরে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ট্যাব বিতরণে অনিয়ম, ইউএনও’র হস্তক্ষেপে সমাধান

শামীম আখতার |

মিঠাপুকুরে রূপসী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ট্যাব বিতরণে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইউএনও’র কাছে মৌখিক অভিযোগ জানায় ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী শাম্মি আক্তার। তার রোল নম্বর (২)। গতকাল রবিবার (৯ জুলাই) বিকেলে ইউএনও’র হস্তক্ষেপে ট্যাবটি ফেরত পায় ওই শিক্ষার্থী।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ৬ এপ্রিল জনশুমারি ও গৃহগণনা প্রকল্প-২০০১ থেকে প্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর উপহার স্বরূপ এই পজেলার এমপিওভুক্ত ৬৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মোট ৪০২জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে ট্যাব বিতরণ করা হয়। গত সোমবার (৩ জুলাই) ট্যাব বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এইচ এন আশিকুর রহমান এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা  পরিষদ চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সরকার। পরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে পর্যায়ক্রমে শিক্ষার্থীদের হাতে এসব ট্যাব তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রকিবুল হাসান।

ট্যাব বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এইচ এন আশিকুর রহমান এমপি। -M24News

উপজেলা পরিসংখ্যান কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ট্যাব বিতরণের আগে বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষকের কাছে নবম ও দশম শ্রেণির মেধা তালিকার প্রথম তিনজন (রোল ১, ২, ৩) করে মোট ৬ জন শিক্ষার্থীর তালিকা চাওয়া হয়। সেই তালিকা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর উপহার স্বরুপ মেধাবী শিক্ষার্থীদের ট্যাব বিতরণ করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে যানা যায়, অন্যান্য বিদ্যালয়ের মতো উপজেলার রূপসী উচ্চ বিদ্যালয় থেকেও তালিকা দেওয়া হয়। কিন্তু সেই তালিকায় নবম শ্রেণির ২ রোলের  শাম্মি আক্তারের পরিবর্তে সদ্য ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল হকের মেয়ে সালেকিনের নাম দেওয়া হয়।

শিক্ষার্থী শাম্মি আক্তার বলেন, “আমার প্রাপ্য ট্যাব সদ্য ভর্তি হওয়া এক শিক্ষার্থীকে দেয়া হয়। ট্যাব ফেরত চাইলে প্রধান শিক্ষক ট্যাবের পরিবর্তে টাকা দিতে চেয়েছিলেন। পরে ইউএনও স্যারের হস্তক্ষেপে ট্যাবটি ফেরত পেয়েছি।”

রূপসী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী শাম্মি আক্তারের মামা আতোয়ার রহমান বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ট্যাব আমার ভাগ্নির প্রাপ্য। কিন্তু তাকে দেওয়া হয়নি। তার পরিবর্তে দেওয়া হয়েছে অন্য শিক্ষার্থীকে। পরে জেনেছি ওই শিক্ষার্থী প্রধান শিক্ষকের মেয়ে।”

এ বিষয়ে রূপসী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল হক বলেন, “বিতরণের সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে ভুলে আরেক মেধাবী শিক্ষার্থীর নাম দেয়া হয়েছিল। পরে ইউএনও’র মাধ্যমে প্রাপ্য শিক্ষার্থীকে ট্যাবটি ফেরত দেয়া হয়েছে।”

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহেদুল ইসলাম বলেন, “খোড়াগাছ উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী এমন অভিযোগ করার পর বিষয়টি সমাধা করা হয়েছে। রূপসী উচ্চ বিদ্যালয়ের ঘটনাটি আমার জানা নেই।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রকিবুল হাসান বলেন, “বিষয়টি জানার পর প্রধান শিক্ষককে ডেকে ট্যাবটি ফেরত নিয়ে শিক্ষার্থী শাম্মি আক্তারকে দেয়া হয়েছে।” তিনি আরো বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ট্যাব বিতরণে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। কেউ অনিয়ম করলে ছাড় দেওয়া হবে না।”

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply