
নিউজ ডেস্ক:
দীর্ঘ চার বছর পর রংপুরের মিঠাপুকুরে চাঞ্চল্যকর সালাম হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই। হৃদরোগে সালামের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচার করা হলেও আপন ভাই ইব্রাহিম মিয়া তাকে হত্যা করেছে। গত বৃহস্পতিবার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করলে তিনি তার ভাই সালামকে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
পিবিআই ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৪ জুন সন্ধ্যায় মিঠাপুকুরের খোড়াগাছ উত্তরপাড়া (কুঠিপাড়া) এলাকায় বাড়ির পাশে রাস্তায় মৃত নুর ইসলামের ছেলে সালামের (৪৮) মৃতদেহ পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে নিহতের ছেলে মমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে মিঠাপুকুর থানায় হত্যা মামলা করলেও সালামের ভাইসহ অন্যান্য আসামিরা তার মৃত্যু হৃদরোগে হয়েছে বলে সংবাদ প্রচার করে।
পর্যায়ক্রমে মিঠাপুকুর থানা পুলিশ ও রংপুর সিআইডি তদন্ত করে এবং সিআইডি বিজ্ঞ আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্ট মিথ্যা মর্মে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। বাদীর নারাজীর প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত পিবিআই রংপুরকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। পিবিআই’র ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার এর সার্বিক তত্ত্বাধানে ও দিক নির্দেশনায় পিবিআই রংপুর জেলার পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন এর নেতৃত্বে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই অসীম কুমার পাল মামলাটি তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে নিহতের আপন ভাই ইব্রাহিম মিয়া (৫৫) মামলার ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকায় তাকে গত বৃহস্পতিবার খোড়াগাছ উত্তরপাড়া (কুঠিপাড়া) এলাকা হতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে করেন।
দীর্ঘ তদন্ত ও আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে ছাগলের কলা গাছের চারা খাওয়াকে কেন্দ্র করে সালাম ও তার স্ত্রীর সঙ্গে ইব্রাহিমের স্ত্রী ও ছেলের ঝগড়া হয়। এ সময় ইব্রাহিম ও সালাম বাড়িতে ছিলেন না। বাড়িতে এসে সালাম ঘটনা শোনার পর জনৈক মোস্তফার বাড়িতে ঘটনার বিচার দেওয়ার জন্য যায়। সেখানে গ্রেপ্তারকৃত ইব্রাহিমও ছিল। সেখানে তাদের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হলে গোলাম মোস্তফা তখন তাদের দুই ভাইকে থামিয়ে দিয়ে তারাবির নামাজের পরে আসতে বলেন। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে পুনরায় উভয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। ধাক্কাধাক্কি ও মারামারির এক পর্যায়ে সালাম মাটিতে পড়ে গিয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন এবং মৃত্যুবরণ করেন।
এ বিষয়ে পিবিআই রংপুর জেলার পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন বলেন, বিজ্ঞ আদালতের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণসহ মামলাটি পিবিআই রংপুরে তদন্তের জন্য দেওয়া হয়। নিহতের সুরতহাল থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পাওয়া যায়। মামলাটি নিবিড় তদন্তকালে প্রকাশ্য ও গোপন বেশকিছু সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আসামি ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত শুক্রবার তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে ইব্রাহিম মিয়া তার ভাই সালামকে হত্যার ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। কালেরকন্ঠ
এম২৪নিউজ/আখতার