মিঠাপুকুরে কিশোরকে গাছে বেঁধে পিটুনি

স্টাফ রিপোর্টার:

মিঠাপুকুরে মেয়েকে উত্ত্যক্তের কথা বলে এক কিশোরকে মধ্যযুগীয় কায়দায় গাছের সঙ্গে বেঁধে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। শনিবার এ ঘটনার পর বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

রবিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিশোরকে (১৬) মারধরের ভিডিও প্রকাশ হলে এতে দেখা যায়, একটি আমগাছের সঙ্গে তার হাত ও ঘাড়ে রশি দিয়ে বাঁধা। কয়েকজন তাকে লাঠি দিয়ে একের পর এক মারধর করছেন। এসময় দু’জন গ্রাম পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দরিদ্র পরিবারের ছেলে মারধরের শিকার কিশোর অভাবের সংসারে পড়ালেখা বাদ দিয়ে বাবার সঙ্গে কৃষিকাজ করে। সম্প্রতি প্রতিবেশীর মেয়ের সাথে সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

গত শনিবার নিজ বাড়ির সামনে থেকে কিশোরকে ধরে নিয়ে যায় মেয়েটির বাড়ির লোকজন। পরে তাকে বাড়ির আঙিনায় আমগাছের সাথে রশি দিয়ে শক্তভাবে বেঁধে ফেলে। একপর্যায়ে এলাকার আবদুল খালেক, করিম মিয়া, রবিউল, সেহেরুল, মোস্তা, আনারুল, রউফ, তালেব, কুদ্দুস, মিজানসহ ১৫ থেকে ২০ জন লাঠি দিয়ে তাকে মারধর করে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে কিশোর অসুস্থ হয়ে পড়লে পুলিশ ডেকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন বলেন, মেয়েটির বাবা গায়ের জোরে লোকজন ভাড়া করে ছেলেটিকে ধরে যেভাবে মারপিট করেছে, এটা অন্যায়। তারা গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে।

কিশোরকে মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে মেয়েটির বাবা বলেন, মেয়েকে বারবার বিরক্ত করে আসছে ছেলেটি। তাই তাকে ধরে একটু শাসন করা হয়েছে। অপরাধ করলে আইনের আশ্রয় না নিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধরের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনও উত্তর দেননি।

মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, ছেলেটিকে মারধর করা ঠিক হয়নি। তাকে রক্ষার জন্য আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে ১৫১ ধরায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply