মিঠাপুকুরে বিদ্যালয় ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

মিঠাপুকুরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের কাজের অভিযোগে কর্তৃপক্ষ কাজ বন্ধ রেখেছেন। এনিয়ে সেখানে ৩য় বারের মত নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠলো। ঠিকাদারের কাজ ও আচরনে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী। তারা দ্রুত প্রতিকারের দাবী করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সুত্র, অভিযোগ এবং সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের গোকর্ণ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মানের জন্য ১ কোটি ১৫ লক্ষ ৯৩ হাজার ৬৪০ টাকা ব্যয় বরাদ্দে নভেম্বর/২২ মাসে কাজ শুরু করেন মেসার্স মনা কনষ্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কাজের শুরুতেই গ্রেট বীম নির্মানে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরেজমিনে তদন্ত করে ঐ নিম্নমানের কাজ বন্ধ রাখেন। পরে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর তত্বাবধানে বিধি মোতাবেক কাজ শুরু হয়।

এরপর অভিযোগ উঠে ময়লাযুক্ত নিম্নমানের খোয়া ও অপরিমিত পানির ব্যবহার নিয়ে। কর্তৃপক্ষ সেটিও দৃষ্টিতে নিয়ে উতরে যান। ৩য় দফায় এবারে এলাকাবাসী অভিযোগ তুলেছেন ভবনের ওয়াল নির্মানে ২ ও ৩ নং ইট ব্যবহারের। বালু সিমেন্ট মিশ্রনে নেয়া হয় আদি পদ্ধতি (কোদাল বেলচা ব্যবহার করা হয়)।

সরেজমিনে গিয়ে নির্মিত ভবনের সামনে লক্ষ্য করা গেছে ২ ও ৩ নং ইট মিশ্রিত খামাল। নিয়ম থাকলেও প্রকল্পের সামনে বা আশে-পাশে খুঁজে পাওয়া যায়নি প্রকল্পের চলমান কাজের দৃশ্যমান সাইনবোর্ড। দেখা মেলেনি ঠিকাদারের। রতন নামের মিস্ত্রি বলেন, ঠিকাদার আসেন না। মোবাইলে তার সাথে কথা হয়। তিনিই ৩/৪ জন মিস্ত্রি নিয়ে কাজ করেন। মাঝে-মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার স্যারেরা এসে কাজ দেখে যান।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, ঠিকাদার শুরু থেকে কাজে ভেজাল করছেন। অভিযোগ করেও প্রতিকার মিলছে না। ঠিকাদার কেন কোন কিছু তোয়াক্কা করছেন না, এটা তাদের বুঝে আসে না।

ঐ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহজাহান আলী বলেন, ভবন নির্মানের কাজের ব্যাপারে তার কোন করনীয় নেই। কাজ তদারকি করেন ইঞ্জিনিয়ার। তবে শুরু থেকে নি¤œমানের কাজের অভিযোগ উঠছে। কর্তৃপক্ষ বারবার পদক্ষেপ নিয়েও কিছু করতে পারছেন না। ঠিকাদার এবং তার লোকজনকে কিছু বললেই কাজ বন্ধ রেখে চলে যাওয়ার হুমকি দেন। কিছুদিন আগে তারা তা করেওছিল। আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারবোনা।

মোবাইল ফোনে ঠিকাদার নজরুল ইসলাম নজেল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি ১নং ইট কিনেছেন। কোন ২ ও ৩ নং ইট ব্যবহার করা হচ্ছে না। ঠিকমত কাজ করছেন। মাঝে মাঝে সাইটে আসেন। আসলে সাক্ষাতে কথা বলবেন।

কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিঃ ইব্রাহিম বলেন, ২নং ইটের অভিযোগ পাওয়ায় ঐ ইটের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি এবং তার উর্ধতন কর্তৃপক্ষ মিলে কাজ তদারকি করেন বলে তড়িঘড়ি মোবাইল ফোন কেটে দেন।

মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্বে) ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) মো. রুহুল আমিন বলেন, ইতিপুর্বে নিম্নমানের কাজের অভিযোগে সরেজমিনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আবারো অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply