মিঠাপুকুরে সরকারী বরাদ্দে অন্যের জমিতে রাস্তা করলেন আ’লীগ নেতা!

স্টাফ রিপোর্টার:

মিঠাপুকুরে এক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে যেতে সরকারী বরাদ্দে অন্যের ব্যক্তিগত জমির উপর দিয়ে জোর পূর্বক রাস্তা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরফলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ৭ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। মানবেতর জীবন যাপন করছেন ওই পরিবারের সদস্যরা। এদের মধ্যে কয়েকজন রয়েছে স্কুলগামী শিক্ষার্থী।

এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহি অফিসারের কাছে দু’দফা অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবাগুলো। কিন্তু, এ পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের ধাপ শ্যামপুর গ্রামে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ওই গ্রামের মোকছেদ আলীর বাড়ির পাশ দিয়ে একটি ইট বিছানো হ্যারিং বন্ড রাস্তা পূর্বদিকে চলে গেছে। সেখানেই ৩০ মিটারের মধ্যে শেষ রাস্তাটি। রাস্তার শেষ প্রান্তে গোপালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোকলেছার রহমানের বাড়ি। অভিযোগ রয়েছে, আ’লীগ নেতা হওয়ায় জোরপূর্বক সরকারী টাকায় রাস্তাটি নির্মাণ করেছেন।

উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কার্যালয়ের পিআরডিপি-৩ প্রকল্পের আওতায় প্রায় এক লাখ টাকা ব্যয়ে রাস্তাটি নির্মিত। রাস্তাটি নির্মাণের ফলে সাজেদুল ইসলাম, এরশাদুল হক, এন্দাদুল হক, মাহমুদুল ইসলাম, সুমন মিয়া, আশরাফুল ইসলাম ও মোকছেদ আলীর বাড়ি পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

ধাপশ্যামপুর গ্রামের মোকছেদ আলী বলেন, ‘আমার জমির উপর দিয়ে জোর পূর্বক রাস্তা করেছেন আ’লীগ নেতা মোকলেছার রহমান। আমরা এতে বাধা দিয়েছিলাম কিন্তু তারা কর্নপাত করেনি। উল্টো মামলা-হামলার ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাস্তাটি নির্মাণের ফলে আমরা ৭ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছি। আমাদের ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যেতে পারছেনা, ঠিকমত লেখাপড়াও করতে পারছেনা।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন গ্রামবাসী বলেন, ‘মোকলেছার রহমান আ’লীগের প্রভাবশালী নেতা। তার ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পায়না। তাই, জোরপূর্বক তিনি রাস্তাটি নির্মাণ করেছেন।

তারা আরও বলেন, ‘যে জমিটি দিয়ে রাস্তা করা হয়েছে, সেটি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। তারপরও কিভাবে সরকারী বরাদ্দ দিয়ে রাস্তা নির্মাণ হয়?’

পানিবন্দি পরিবারের কর্তাব্যক্তি আশরাফুল আলম বলেন, ‘আ’লীগ নেতাসহ কয়েকজনের বাড়িতে যেতে রাস্তাটি জোরপূর্বক নির্মাণ করা হয়েছে। এরফলে আমরা ৭ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছি। এভাবে চলতে থাকলে মাটি দিয়ে নির্মিত আমাদের ঘরগুলো ভেঙ্গে পড়বে।’

আ’লীগ নেতা মোকলেছার রহমান বলেন, ‘রাস্তাটি ৯২ সালে রেকর্ডভুক্ত হয়েছে। এছাড়াও, ইউনিয়ন পরিষদের নামে রাস্তাটি আমরা লিখে দিয়েছি। অন্যের জমির উপর রাস্তা নির্মাণের প্রশ্নই ওঠেনা।’

মিঠাপুকুরে সরকারী বরাদ্দে অন্যের জমিতে রাস্তা করলেন আওয়ামী লীগ নেতা। -M24News

উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘রাস্তার নামে রেকর্ডীয় কাগজপত্র তারা দেখিয়েছিল। একারণে, সরকারী বরাদ্দে রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহি অফিসার (ইউএনও) ফাতমোতুজ জোহরা বলেন, ‘অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply