মিঠাপুকুরে চাঞ্চল্যকর ভ্যান চালক হত্যা মামলার মূলহোতা বুলবুল গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার:

রংপুরের মিঠাপুকুরে চাঞ্চল্যকর ভ্যান চালক মিয়াজান মিয়া (৪০) হত্যা মামলার মূল হোতা বুলবুল আহমেদকে (২৭) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে চেংমারী ইউনিয়নের আবিরেরপাড়া আকিজ বিড়ি ফ্যাক্টরির সামন থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

আজ বুধবার দুপুরে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত বুলবুল কাশিমপুর সরকারপাড়ার মুকুল মিয়ার ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জানুয়ারি রাতে নির্জন একটি আম বাগানে সংঘটিত এই হত্যাকান্ডের রহস্য উদ্ঘাটনসহ জড়িত মনির ও মেহেদীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যত্র বিক্রি করা চার্জারভ্যান উদ্ধারসহ মোবাইল ফোন ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মাফলারটি জব্দ করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা অপর আসামি প্রতিবেশী বুলবুল আহমেদ (২৭) পলাতক থাকার পর অবশেষে মঙ্গলবার রাতে চেংমারী ইউনিয়নের আবিরেরপাড়া আকিজ বিড়ি ফ্যাক্টরির সামন থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

আজ বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রংপুর জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (ডি-সার্কেল) কামরুজ্জামান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, চাঞ্চল্যকর ভ্যানচালক মিয়াজান মিয়া হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা বুলবুল আহমেদকে বুধবার গ্রেফতার করা হয়। আসামী বুলবুল বিজ্ঞ আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বুলবুল কাশিমপুর সরকারপাড়ার মুকুল মিয়ার ছেলে এবং আসামি মনিরুজ্জামান মনির উপজেলার রামেশ্বরপুর গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে ও মেহেদি হাসান সানি একই উপজেলার কাশিমপুর সরকারপাড়া গ্রামের মোতালেব হোসেনের ছেলে।

এএসপি কামরুজ্জামান আরো জানান, গত ২১ জানুয়ারি সকাল ৭টার দিকে উপজেলার চেংমারী ইউনিয়নের পাগলারহাট ও ফকিরেরহাটের মধ্যবর্তী আঞ্চলিক মহাসড়কে রামেশ্বরপুর গ্রামের পার্শ্ববর্তী একটি আম বাগান থেকে ভ্যানচালক মিয়াজান মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত মিয়াজান একই ইউনিয়নের চেংমারি এলাকার মৃত নবীর উদ্দিনের ছেলে। হত্যাকারীরা তার ব্যাটারিচালিত চার্জারভ্যান ও মোবাইল ফোন নিয়ে চলে যায়।

তিনি আরো জানান, মনির ও মেহেদী তারা খুব ভালো বন্ধু এবং একই সঙ্গে চলাফেরা করে। তাদের কাছে কোনো টাকা না থাকায় তারা তাদের সমস্যার কথা প্রতিবেশী বুলবুলকে জানান। পরে বুলবুলের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে তারা তিনজন মিলে যাত্রীবেশে মিয়াজানের অটোভ্যানটি ভাড়া করে। পথিমধ্যে নির্জন জায়গায় পৌঁছালে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বুলবুল তার মাফলার দিয়ে ভ্যানচালক মিয়াজানের গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে। 

পরে ভ্যানটি নিয়ে মূল রাস্তা থেকে ৩০০ মিটার দূরের একটি নির্জন আম বাগানে গিয়ে মিয়াজানকে হত্যা করে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে মোবাইল ফোন ও ভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে যায়। ওই রাতেই তারা ভ্যানটি নিয়ে গঙ্গাচড়ার গজঘণ্টা এলাকায় চলে যায়।

পরদিন তারা ভ্যানটি বিক্রি করে নিজ বাসায় ফিরে আসে এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে থাকে। ঘটনার দুদিন পর তারা তিনজন মিলে নিহত মিয়াজানের জানাজায়ও অংশ নেন।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রোমানা বেগম লালমাই বাদী হয়ে মিঠাপুকুর থানায় মামলা করেন। পুলিশ বুধবার (২ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রথমে মনিরকে গ্রেফতার করে তার কাছে থাকা নিহত মিয়াজানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মাফলার উদ্ধার করে। পরে মনিরের দেওয়া তথ্যে জড়িত অপর আসামি মেহেদীকেও গ্রেফতার করা হয়।

পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে রংপুর নগরীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার লিটন মিয়ার অটোরিকশার গ্যারেজ থেকে ছিনতাই হওয়া অটোভ্যানটি উদ্ধার করা হয়। ভ্যানচালককে হত্যার পর ওই অটোভ্যানটি প্রথমে গঙ্গাচড়া উপজেলার গজঘণ্টা এলাকার বাবলু মিয়ার কাছে বিক্রি করে হত্যাকারীরা। পরে বাবলু মিয়া রংপুর নগরীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের দোলাপাড়া এলাকার নুরুল আমিন এবং রাসেদ মিয়ার কাছে অটোভ্যানটি বিক্রি করেন।

মিঠাপুকুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ভ্যান চালক মিয়াজান হত্যা মামলার মূল হোতা বুলবুল আহমেদকে গ্রেফতার করে বুধবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply