
স্টাফ রিপোর্টার:
রংপুরের মিঠাপুকুরে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা। পরে অভিভাবক ও স্থানীয়দের তোপের মুখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তিনি। এ ঘটনায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। উপজেলার বালুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নের বালুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচনকে ঘিরে মাসখানেক ধরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক গোপনে দাতা সদস্য নির্বাচিত করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ি ও তরফসাদী দাখিল মাদ্রাসার অফিস সহকারী আব্দুস সাত্তার এবং বালুয়া মাসিমপুর সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ময়নুল ইসলামকে।
এ ঘটনায় ওই বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি সেলিম চৌধুরী ১২ সেপ্টেম্বর দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডে একটি অভিযোগ করেন। গত রোববার হঠাৎ অভিযোগের তদন্তে যান উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমান। তিনি কোন প্রকার নোটিশ দেননি বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকেরা।
সেলিম চৌধুরী বলেন, নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের ৬ মাস পূর্বে ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা জমা দিয়ে দাতা সদস্য নির্বাচিত করতে হবে। কিন্তু, প্রধান শিক্ষক গোপনে আব্দুস সাত্তার ও ময়নুল ইসলামকে দাতা সদস্য নির্বাচিত করেন। পরে আব্দুস সাত্তারকে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচনের পায়তারা চালাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, রোববার দুপুরে হঠাৎ করে মৎস্য কর্মকর্তা তদন্তে আসেন। তিনি কাউকে নোটিশ প্রদান করেননি। এছাড়াও, কর্মকর্তা বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিযোগকারীদের সাথে অসদাআচরণ করেন। ফলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
নোটিশ প্রদান না করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন কয়েকজন নির্বাচিত অভিভাবক সদস্য। তারা জানান, বাদী ও বিবাদীকে নোটিশ না দিয়ে তদন্তে আসার কারণে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। তদন্ত না করেই কর্মকর্তা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছেন।
বালুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম সরোয়ার বলেন, অভেযোগের প্রেক্ষিতে মৎস্য কর্মকর্তা তদন্তে এসেছিলেন। পরে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় তিনি চলে যান। নোটিশ প্রদান না করার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, আমি তদন্তে গিয়েছিলাম। ভুল বোঝাবুঝির কারণে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। কোন নোটিশ প্রদান করা হয়েছিল কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কথা ঘুরিয়ে বলেন, আমিতো তদন্তে যাইনি। ওইদিকে ঘুরতে গেছিলাম, তাই প্রধান শিক্ষকের রুমে বসেছি। পরে তদন্ত করা হবে।
এম২৪নিউজ/আখতার