মিঠাপুকুরে শিশু ধর্ষণ চেষ্টাসহ ধর্ষণ ও গনধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার ২

স্টাফ রিপোর্টার:

রংপুরের মিঠাপুকুরে শিশু ধর্ষণ চেষ্টাসহ ধর্ষণ ও গনধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় পৃথক মামলা হয়েছে। শিশু ধর্ষণ চেষ্টাসহ ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতাররা হলেন, বড়বালা ইউনিয়নের পশ্চিম বড়বালার জুম্মা পাড়া গ্রামের জাবেদ আলী (৫৫) ও শিতলগাড়ী গ্রামের শাকিল মিয়া (২২)। গন-ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত স্বপন মহন্ত ও বাবু প্রামানিক নামের দুই যুবক পলাতক রয়েছে।

এলাকাবাসী, ভুক্তভোগীর স্বজন ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, মিঠাপুকুর উপজেলার বড়বালা ইউনিয়নের পশ্চিম বড়বালার জুম্মা পাড়া গ্রামে ৩ শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ৪ সন্তানের জনকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত-র নাম জাবেদ আলী (৫৫)।

বুধবার (৫ জুলাই) অভিযুক্ত জাবেদ আলীর উঠোনে ৩ শিশু খেলাধুলা করছিল। নির্যাতনের শিকার শিশুরা প্লে, নার্সারী ও ২য় শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত জাবেদ আলী কাঠাল খাওয়ার কথা বলে নির্যাতনের শিকার শিশুদেরকে তার বাড়ির ভিতরে নিয়ে যায়। এরপর সুযোগ বুঝে ওই শিশুদের ঘরের ভিতরে বন্ধ করে ভয়ভীতি দেখিয়ে অপকর্ম করার চেষ্টা চালায়। হঠাৎ বৃষ্টি আসলে শিশুদের খোঁজাখুজি করতে থাকে তাদের অভিভাবকরা। একপর্যায়ে জাবেদ আলীর উঠোনে শিশুরা খেলধুলা করছিল জানতে পেরে সেখানে যায় এক শিশুর বাবা।

তিনি গিয়ে দেখতে পান শিশুরা সেখানেও নেই এবং জাবেদ আলীর ঘরের দরজা জানালা বন্ধ। কিন্তু তার দরজার সামনে শিশুদের জুতা দেখতে পেয়ে ওই শিশুর বাবা দরজা-জানালার ফাঁক দিয়ে ঘরের ভিতরে জাবেদ আলী ও শিশুদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। এরপর একে একে গ্রামবাসীরা বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত জাবেদ আলীকে গ্রেফতার করে।

দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে উপজেলার শিতলগাড়ী গ্রামে। ওই গ্রামের শাকিল মিয়া (২২) পেশায় মোটর শ্রমিক। তিনি এক বছর আগে রংপুরের লালবাগ এলাকার জনৈক নারীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ঈদ উপলক্ষে শাকিলের স্ত্রী সোমবার বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান। সেখান থেকে স্বামীর বাড়ি আসার সময় তার এক বান্ধবী সাথে আসেন। সেই বান্ধবী বুধবার (৫ জুলাই) সকালে বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে পড়লে শাকিল তার স্ত্রীর বান্ধবীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেন।

পরদিন বুধবার ঘটনাটি প্রকাশ পেলে রংপুর থেকে ওই বান্ধবীর মা এসে বিষয়টি মিঠাপুকুর থানায় জানায়। পুলিশ অভিযোগ পেয়ে শাকিলকে গ্রেফতার এবং ভুক্তভোগীকে ডাক্তারী পরীক্ষার ব্যবস্থা করে।

তৃতীয় ঘটনাটি ঘটে উপজেলার ইমাদপুর ইউনিয়নের ইমাদপুর নাওকাটা গ্রামে। বাবার বাড়ীতে নাইওর আসা (বেড়াতে আসা) এক যুবতীকে প্রতিবেশী স্বপন মহন্ত ও বাবু প্রামানিক নামের দু’যুবক প্রথমতঃ চেতনানাশক মিশ্রিত কোমল পানীয় খাওয়ায়ে অজ্ঞান করে ধর্ষন ও ধর্ষন দৃশ্য ভিডিও ধারন করে। পরবর্তীতে ধর্ষন দৃশ্যের ভিডিওকে জিম্মি করে আবারো ধর্ষন করে। ভুক্তভোগী ঘটনাটি প্রকাশ করলে আপোষের নামে টালবাহানা ও ভুক্তভোগীকে হুমকি দিয়ে আসছিল স্থানীয় মাথামোটারা। পরে পুলিশ বিষয়টি জানতে পেরে ভুক্তভোগীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলা রুজু করেন। তবে অভিযুক্তরা গা ঢাকা দিয়েছে।

মিঠাপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ধর্ষনের ঘটনায় পৃথক মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যে ২ মামলার ২ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশী তৎপরতা অব্যাহত আছে।

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply