
স্টাফ রিপোর্টার:
স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রাণ হারানো শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মিঠাপুকুর উপজেলার বড়বালা ইউনিয়নের ছড়ান বাজার এলাকার পুলিন চন্দ্র বর্মনের পরিবার আজও পাননি মুক্তিযোদ্ধার সনদ। মেলেনি মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদা। সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকেও বঞ্চিত এই শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার। সুবিধাবঞ্চিত এই অসহায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মাঝে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আমরাই বাংলাদেশ’।
গত বুধবার (২১এপ্রিল) শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পুলিন চন্দ্র বর্মন এর ছোট ভাই কামিনি চন্দ্র বমর্ণের হাতে উপহার হিসেবে এক মাসের খাদ্যসামগ্রী ও নগদ ২ হাজার টাকা তুলে দেয়া হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আমরাই বাংলাদেশ’ এর প্রতিষ্ঠাতা আজাহার আলী, সভাপতি আতাউর রহমান, সহ-সভাপতি মস্তাফিজার রহমান, সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহে আলম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শামিম মিয়া, অর্থ সম্পাদক জামিউল ইসলাম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ফয়সাল শিহাব, আশিকুর রহমান প্রমুখ।
মহামারি করোনা পরিস্থিতিতে চলমান লকডাউনে পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী কামিনি চন্দ্র বর্মণ যখন কর্মহীন হয়ে পড়েন ঠিক এমন এক বিপর্যয়ের সময় সহযোগিতা পেয়ে খুশি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারটির সদস্যরা।
জানা যায়, মিঠাপুকুর উপজেলার বড়বালা ইউনিয়নের ছড়ান এলাকার ছেলে পুলিন চন্দ্র বর্মন স্বাধীনতা যুদ্ধে মৃত্যু বরণ করেন। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে লাল মুক্তিবার্তায় তার নাম রয়েছে। ২০০৫ সালের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত গেজেটেও তার নাম আছে। ২০০৫ সালে রংপুর জেলা প্রসাশন ও ২০২১ সালে উপজেলা প্রশাসনের মুক্তিযোদ্ধার চুড়ান্ত তালিকায় নাম থাকলেও এখনও মেলেনি শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সনদ। সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকেও বঞ্চিত এই শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার।
শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পুলিন চন্দ্র বর্মন এর ছোট ভাই কামিনি চন্দ্র বমর্ণ জানান, পুলিন চন্দ্র বর্মন স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেওয়ার কারণে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্মম নির্যাতন চালায়। হানাদার বাহিনীর সদস্যরা গরম পানিতে চুবিয়ে তপ্ত আগুনে জ্বালিয়ে দেয় তার দেহ। মুহুর্তেই ছাই হয়ে যায় বাংলার মুক্তিকামী একটি তাজা প্রাণ। তার শরীরের শেষ অংশটুকুও আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসী জানায়, দেশের জন্য প্রাণ হারানো শহীদ এই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের বেহালদশা যেন দেখার কেউ নেই। দারিদ্রতার কষাঘাতে কোনরকমে দিনযাপন করছে পরিবারটি। মাত্র চার শতক জমির উপর কোনরকমে বসবাস করেন তার একমাত্র ভাই কামিনি চন্দ্র বর্মণ। সেই বাড়ি থেকে বের হওয়ার জন্য কোন রাস্তা নেই। নিরুপায় হয়ে অন্যের জমি দিয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কোনরকমে চলে তাদের নিত্যদিনের জীবন। এমনকি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার গৃহহীণদের জন্য একটি ঘরও মেলিনি এই শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি একটি স্যাটেলাইট চ্যানেলসহ বিভিন্ন ইলেক্টিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পুলিন চন্দ্র বর্মনকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
এম২৪নিউজ/আখতার