মিঠাপুকুরে সরকারী ঘর দেওয়ার নামে লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

রংপুরের মিঠাপুকুরে দুঃস্থ্যদের জন্য বরাদ্দকৃত ঘর দেওয়ার কথা বলে আড়াই লক্ষাধীক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী দুঃস্থ্যরা উপজেলা নির্বাহি অফিসারসহ কয়েকটি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যের বিরদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মিলনপুর ইউনিয়নে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মিলনপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত ইউপি সদস্য মাহমুদা বেগম দুঃস্থ্যদের জন্য বরাদ্দকৃত ঘর দেওয়ার নাম করে প্রায় ৩০ জন দুঃস্থ্যের কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা উৎকোচ গ্রহন করেন। ৭ মাস পেরিয়ে গেলেও ঘর না দিয়ে টালবাহানা করেন ওই ইউপি সদস্য।

সন্তোষপুর গ্রামের ভুক্তভোগী গোলাপজান বলেন, আমি অনেক কষ্টে মাহসুদা মেম্বারকে ২০ হাজার টাকা দিয়েছি। ৭ মাসেও তিনি আমাকে ঘর দেইনি। ওই গ্রামের আরেক ভুক্তভোগী আবেদ আলী বলেন, বহু কষ্টে টাকা জোগাড় করে দিয়েছি। এখন টাকাও দিচ্ছে না, ঘরও পাচ্ছি না।

সরেজমিনে মিলনপুর ইউনিয়নের সন্তোষপুর গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, গ্রায় ৩০ জন দুঃস্থ্য মানুষের ৫ হাজার হতে ২০ হাজার টাকা করে উৎকোচ নেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে একজন গোলসেনারা বেগম। নিজের থাকার ঘরটিও নেই তার। অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। এরপরও, ওই ইউপি সদস্যকে ২০ হাজার টাকা দিয়েছেন। কিন্তু, ৭ মাস পেরিয়ে গেলেও ঘর পাননি গোলসেনারা বেগম।

ভুক্তভোগী তরিকুল ইসলাম ও সেকেন্দার আলী বলেন, ঘর দেওয়ার জন্য মেম্বার মাহমুদা আমাদের বাড়িতে এসে ১৫ হাজার করে টাকা নিয়েছেন। ৭ মাসেও ঘর না পেয়ে খোঁজ নিয়ে দেখি, আমাদের নামে কোন ঘর বরাদ্দ নেই। টাকা ফেরৎ চাইলে মেম্বার আমাদের হুমকি দিচ্ছেন।

মিলনপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত সদস্য মাহমুদা বেগম বলেন, যারা আমাকে টাকা দেওয়ার কথা বলছেন, সবাই আমাকে টাকা দেয়নি। দু’একজন দিয়ে থাকলেও, তাদেরকে টাকা ফেরৎ দেওয়া হবে।

মিলনপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম চৌধুরী বলেন, ঘর দেওয়ার নামে টাকা আত্মসাতের বিষয়টা আমার জানা নেই। কেউ আমার কাছে আসেওনি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমান বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

এম২৪নিউজ/আখতার