
শামীম আখতার ||
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার রাণীপুকুর ও খোড়াগাছ ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক গোলাম আজম সোহাগ। তাঁর বড় ভাই মরহুম শাহীন বিপ্লবের আদর্শকে ধারণ করে তিনি নিজ অর্থায়নে ও উদ্যোগে জনভোগান্তি নিরসনে একের পর এক রাস্তা সংস্কার ও সমাজসেবামূলক কাজ করে যাচ্ছেন।
গত করোনা মহামারীতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন রাণীপুকুর ইউনিয়নের নাসিরাবাদ গ্রামের মৃত আব্দুস ছাত্তারের ছেলে শাহীন বিপ্লব। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৪৫ বছর। জীবদ্দশায় তিনি ছিলেন এলাকার অতি পরিচিত মুখ এবং পরোপকারী মানুষ। রাস্তাঘাট সংস্কার থেকে শুরু করে গরিব-দুঃখী মানুষের বিপদে সবার আগে ঝাঁপিয়ে পড়তেন তিনি। তাঁর অকাল প্রয়াণে এলাকায় যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণে এগিয়ে এসেছেন তাঁর ছোট ভাই গোলাম আজম সোহাগ।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে রাণীপুকুর ইউনিয়নের মাঠের হাট এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। প্রতিদিন স্কুলের শিক্ষার্থীসহ সহস্রাধিক মানুষ এই ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হতো। স্থানীয়দের দুর্ভোগ লাঘবে এবার সেই রাস্তাটি সংস্কারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন গোলাম আজম সোহাগ। শুধু মাঠের হাট নয়, রাণীপুকুর ও পার্শ্ববর্তী খোড়াগাছ ইউনিয়নের রুপসী এলাকার ভাঙ্গা রাস্তা রাস্তাগুলো সংস্কার করছেন তিনি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের হাট এলাকায় ইটের খোয়া ও মাটি ফেলে চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে দীর্ঘদিনের ভাঙা রাস্তাটি। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “শাহীন বিপ্লব ভাই আমাদের দুঃসময়ের বন্ধু ছিলেন। আজ তাঁর ভাই সোহাগ যেভাবে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাতে আমরা ধন্য। এই রাস্তাটি ঠিক হওয়ার ফলে আমাদের দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর হয়েছে।”
মাঠেরহাট এলাকার বাসিন্দা আমেনা বেগম বলেন, “প্রতিবার সামান্য বৃষ্টি আসলেই আমার বাড়ির পাশের রাস্তাটি ভেঙ্গে যায়। আমাদের যাতায়াতে অনেক কষ্ট হয়েছিল। এবারে সোহাগ চাচা নিজে দায়িত্ব নিয়ে কাজটি করেছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে এর প্রতিদান দিবেন।”
স্থানীয় মোজাম্মেল হোসেন বলেন, “রাস্তার পাশেই আমার বসতঘর। বৃষ্টি আসলেই ঘর ভেঙ্গে যাওয়ার আশঙ্কায় থাকতে হতো। এবারে সোহাগ ভাই ট্রাক্টর ও ভেকু (স্কেভেটর) নিয়ে এসে রাস্তাটি মেরামত করেছেন। এখন আমি চিন্তামুক্ত।”
এ বিষয়ে গোলাম আজম সোহাগ বলেন, “আমার বড় ভাই সবসময় মানুষের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিতেন। তাঁর অসম্পূর্ণ কাজগুলো এগিয়ে নেওয়া এবং এলাকার মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আমার মূল লক্ষ্য। রাণীপুকুর ও খোড়াগাছ ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের সেবা করতে পারা আমার কাছে পরম আনন্দের। এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।”
উল্লেখ্য, শুধু রাস্তা সংস্কারই নয়, বিগত কয়েক বছর ধরে উভয় ইউনিয়নের অসহায় মানুষদের আর্থিক সহায়তা ও বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে বিশেষ অবদান রেখে চলেছেন এই তরুণ সমাজসেবক।
এম২৪নিউজ/আখতার