
স্টাফ রিপোর্টার:
রংপুরের মিঠাপুকুরে দুঃস্থ্যদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফ ও প্রধানমন্ত্রীর উপহারের টাকা লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। লুটপাটের প্রতিবাদ করায় চেয়ারম্যানের লোকজন স্থানীয়দের উপর হামলা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে স্থানীয়রা। তারা রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ কয়েকটি দপ্তরে অভিযোগ করেছেন। কিন্তু, এ পর্যন্ত কার্যকরি কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ইমাদপুর ইউনিয়নে ঈদুল ফিতরের ভিজিএফ’র সাড়ে ৪’শ টাকা ও প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ৫শ টাকা দুঃস্থ্যদের বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু, চেয়ারম্যান প্রায় ৭শ দুঃস্থ্যের তালিকা নিজের লোকজদের নাম দিয়ে উত্তোলন করেছেন। এছাড়াও, প্রায় ৫০ জন দুঃস্থ্য এ পর্যন্ত টাকা পায়নি। এর প্রতিবাদ করায় চেয়ারম্যানের লোকজন হামলা ঘটনা ঘটিয়েছে। এতে, শামীম মিয়া নামে একজন গুরুতর আহত হন।
শামীম মিয়া বলেন, ‘চেয়ারম্যান আফছার আলী তার মোটরসাইকেল ড্রাইভার মোনারুল ইসলামকে দিয়ে ৫০ জনের টাকা উত্তোলন করেছেন। আমরা এর প্রতিবাদ করলে তার লোকজন আমাদের উপর হামলা চালায়।’
ভিজিএফ কার্ডধারী নয়ন মিয়া বলেন, ‘ভিজিএফ’র টাকা দেওয়ার জন্য আমি জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দিয়েছিলাম। মাস্টাররোলে আমার নামও ছিল। কিন্তু, পরে আমাকে চেয়ারম্যান টাকা দেয়নি। পরে শুনেছি তিনি টাকাগুলো উত্তোলন করেছেন।’
আরেক কার্ডধারী প্রতীমা রাণী বলেন,‘আমাদের ভিজিএফ’র টাকা আমরা পায়নি। শুনেছি কে যেন তুলে নিয়েছেন।’ অসহায়-দুঃস্থ্য লাবলু মিয়া, মিজানুর রহমান ও মায়া রাণী আক্ষেপ করে বলেন, ‘হামরা গরিব মানুষ বাবা। সরকার হামাক ট্যাকা দেচে। কিন্তুক, চেয়ারম্যান মারি দেওচে। হামরা বিচার চাই।’
ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার কামরুজ্জামান বলেন, ‘অভিযোগ সঠিক নয়। আমিসহ ৫ জন অফিসার পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে নামের তালিকা তৈরী করেছি। বিতরণে কোন অনিয়ম হয়নি।’
ইমাদপুর ইউপি চেয়ারম্যান আফছার আলী বলেন, ‘যারা অভিযোগ দিয়েছেন- তাদের নাম মাষ্টার রোলে নেই। তাদের অভিযোগ সঠিক নয়। তিনি আরও বলেন, ‘ট্যাগ অফিসারের মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে টাকা প্রদান করা হয়েছে। অনিয়মের কোন সুযোগ নেই।’
উপজেলা নির্বাহি অফিসার মামুন ভূইয়া বলেন, ‘এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’
এম২৪নিউজ/আখতার