
স্টাফ রিপোর্টার:
রংপুরের মিঠাপুকুরে যৌতুক না পেয়ে গৃহবধূকে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূ আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেছেন।
মামলা থেকে জানা যায়, উপজেলার ইমাদপুর ইউনিয়নের মির্জাপুর দিগর জগৎপাড়া গ্রামের দরিদ্র আনারুল ইসলামের মেয়ে ইতিমনির সঙ্গে পাঁচ বছর আগে দুর্গাপুর ইউনিয়নের চিথলী রামপুরা গ্রামের রুবেল আহম্মেদের বিয়ে হয়। বিয়েতে ইতির বাবা দেড় লাখ টাকা ও আসবাবপত্রসহ দুই লাখ টাকা যৌতুক দেন। বিয়ের পর ইতিমনিকে ঢাকায় নিয়ে যান রুবেল। সেখানে তারা একটি পোশাক তৈরির কারখানায় কাজ নেন।
সম্প্রতি রুবেল গ্রামের বাড়িতে জমি কেনার জন্য ইতিকে বাবার বাড়ি থেকে আরও দুই লাখ টাকা এনে দিতে বলেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে মারধর করা হয়। এরই মধ্যে স্বামীসহ গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন ইতিমনি। সেখানে আসার পরও যৌতুকের জন্য চাপ অব্যাহত রাখেন রুবেল। বিষয়টি নিয়ে শালিসও হয়। একপর্যায়ে ইতির স্বামী, শাশুড়ি, ননদসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন মারধর করে শিশু সন্তানকে আটকে রেখে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এ ঘটনার পর ইতি মিঠাপুকুর থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ তার সন্তানকে উদ্ধার করে তার কাছে ফিরিয়ে দেয়।
ইতি বলেন, রুবেল একজন প্রতারক। তার আরও তিনজন স্ত্রী রয়েছে। তাদের কথা গোপন করে আমাকে বিয়ে করেছে। আমার বিয়েতে বাবা কষ্ট করে টাকাসহ আসবাবপত্র কিনে দেন। কিন্তু সে আরও দুই লাখ টাকা দাবি করে। সে টাকা না দেওয়ায় নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়।
মিঠাপুকুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিরুজ্জামান বলেন, মামলা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এম২৪নিউজ/আখতার