মিঠাপুকুরে একই পরিবারের তিনজনকে কুপিয়ে জখম, ৭ দিনেও মামলা না নেয়ার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

রংপুরের মিঠাপুকুরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে একই পরিবারের তিনজন সদস‍্যকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে মারাত্মক জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। ওই দিনই মিঠাপুকুর থানায় ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ করার আজ ৭ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত থানায় মামলা রুজু করা হয়নি।
এদিকে বেধড়ক মারপিটে গুরুতর আহত হয়ে উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।

ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার ২৪ জুন রাতে উপজেলার ৬নং কাফ্রিখাল ইউনিয়নের নারায়নপুর(মাদার হাট) গ্রামে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এক নারী বাদী হয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাঁচজনের বিরুদ্ধে মিঠাপুকুর থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

ভুক্তভোগীরা হলেন, উপজেলার ৬নং কাফ্রিখাল ইউনিয়নের নারায়নপুর(মাদার হাট) গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম (৫৭) ছেলে রাশেদুল রাব্বি (১৭) এবং স্ত্রী রাশেদা বেগম(৫৩)।

থানায় দাখিল করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কাফ্রিখাল ইউনিয়নের নারায়নপুর (মাদারহাট) গ্রামের সাইফুল ইসলাম সঙ্গে পাশ্ববর্তী মোসলেম উদ্দিনের ছেলে জাহাঙ্গীর আলমের বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। সে বিরোধের জের ধরে বিবাদীরা জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে এবং স্ত্রীকে বিভিন্ন সময় ক্ষয়-ক্ষতিসহ মারপিটের হুমকি দিয়ে আসছিল। গত ২৪ জুন রাতে অভিযুক্ত সাইফুল তাঁর ছেলে শিমুল ও আবুল বাশারসহ তাদের লোকজন পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দা, ধারালো ছুরি লোহার রড ও লাঠি-সোঁটাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় অভিযুক্ত সাইফুলের আদেশে তাঁর ছেলে শিমুল ও বাশার ধারালো দাঁ দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে জাহাঙ্গীর আলমের এবং রাশেদুল রাব্বির মাথায় কোপাতে থাকেন।এতে রক্তাক্ত অবস্থায় তারা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে রাশেদা বেগম তাদের বাচাঁতে এগিয়ে এলে তাকেও ড্রেনের পানিতে চুবিয়ে ধরেন।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্ত্রী রাশেদা বেগম বলেন, অভাব আর অনাটনে দিন কাটছে আমাদের। শত্রুতার জের ধরে আমাদের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে। তারা যে মাথায় দাঁ দিয়ে কোপালো তার কি কোনোই বিচার নাই। মিঠাপুকুর থানায় অভিযোগ করতে গেলে কাফ্রিখাল ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা এস আই রবিউল আমাদের বলেন, আপনারা আর থানায় আসবেন না। আপনারা তো নিজের মাথা নিজেরাই ফাটিয়েছেন। সেখানে তো কোন মারধরের ঘটনায় ঘটেনি। আপনারা এই মুহুর্তেই থানা থেকে বের হয়ে যান। আপনাদের মামলা এ থানায় হবে না। যেখানে হাজার হাজার মানুষ দেখলো মারধরের ঘটনা,সেখানে পুলিশ বলছে উল্টো। তবুও থানায় অভিযোগ দিয়েছি এখনো মামলা রুজু করেনি পুলিশ।

অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম বলেন, সেদিন রাতে মারধরের ঘটনা ঘটেছে সত‍্য। তবে এতটা গুরুতর নয়। এদিকে বাকী অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগের চেষ্ঠা করে ও তাদের পাওয়া যায়নি।

এস আই রবিউল ইসলাম জানান,আমি তাদের এসব কথা বলিনি, আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। তাদের পক্ষে কেউই কথা বলেনি। বিষয়টি এখনো তদন্ত করছি।

মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব‍্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply