
স্টাফ রিপোর্টার:
মিঠাপুকুরে ৩ গ্রামের প্রায় ২’শ মৎস্যজীবির জীবন-জীবিকা অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের থাবায় প্রায় অর্ধকোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা করছেন তারা। এছাড়াও ওই প্রভাবশালীরা মৎস্যজীবিদের হত্যার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কাফ্রিখাল ইউনিয়নের কাফ্রিখাল বিলে।
খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, ৭৭ একর আয়তনের কাফ্রিখাল বিলটি সরকারী ভাবে ইজারা দেওয়ার জন্য রংপুর জেলা প্রশাসক গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সেই অনুযায়ী মিঠাপুকুরের কাফ্রিখাল বিলেরপাড় মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লি. বিলটি ভ্যাট ও আয়করসহ ২৪ লাখ ৮৮ হাজার টাকায় সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ৬ বছরের জন্য লিজ গ্রহন করে। নিয়মানুযায়ী ভ্যাট ও আয়করসহ প্রথম বছরের লিজের টাকা প্রদান করে ওই সমিতি। চলতি বাংলা সনের পহেলা বৈশাখ মিঠাপুকুর ভূমি কার্যালয় হতে মৎস্যজীবিদের বিলটি বুঝে নেয়। এরপর বিলের উন্নয়নের কাজ শুরু করেন তারা। এরই মধ্যে বিলটি হতে কচুরিপানা পরিস্কারের সাড়ে ৭ লাখ, বিলের পাড় সংস্কারে সাড়ে ৪ লাখ, মাছের পোনা ছাড়তে ৬ লাখ, নৈশ্য প্রহরী ও মাছের খাবারের জন্য প্রায় ২ লাখ টাকা খরচ করেছে ওই মৎস্যজীবি সমিতি।
মৎস্যজীবিদের অভিযোগ, স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী বিলটি গ্রাস করতে উঠে পড়ে লেগেছে। তারা বিলটি হতে মাছ ধরার পায়তারা করছে। বিলে কর্মরত নৈশ্য প্রহরীদের হত্যা ও বিষ দিয়ে মাছ নিধনের হুমকি দিচ্ছে। এছাড়ও বিলে একটি দেশী প্রজাতী মাছের অভয়ারণ্য রয়েছে। সেটির ক্ষতি সাধনের চেস্টা করছে। প্রভাবশালীদের মধ্যে রয়েছে নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আলহাজ্ব মৃত. তাহার উদ্দিনের ছেলে তোজাম্মেল হোসেন ও মোজাম্মেল হোসেন। এছাড়াও মিজানুর রহমান, শাহিনুর ইসলাম, ওয়ারেছ আলী, আশরাফুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর হোসেন, লেলিন মিয়া, আবু আলী, ইলিয়াস আলীসহ প্রায় অর্ধশত ব্যক্তি রয়েছে প্রভাবশালীদের তালিকায়।
মৎস্যজীবি সমিতি’র সভাপতি মফিদুল ইসলাম বলেন, আমরা মৎস্যজীবিরা সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে বিলটি ৬ বছরের জন্য লিজ গ্রহন করি। এ পর্যন্ত আমাদের প্রায় অর্ধকোটি টাকা বিনিযোগ হয়েছে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল আমাদের অব্যাহত ভাবে হুমকি দিচ্ছে। আমরা জেলে, অসহায় মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি।
বিলটির দায়িত্বে থাকা ব্যবস্থাপক নুরুল হুদা বলেন, প্রভাবশালীরা বিলটি একটি অংশ অবৈধভাবে চাচ্ছে। আমরা দিতে রাজি না হওয়ায় আমাদের ক্ষতির চেষ্টা করছে তারা। এরফলে বিলটির পাড়ে বসবাসকারী প্রায় ২ শত মৎস্যজীবির জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। নৈশ্য প্রহরী নুরুল আমিন ও একরামুল হক বলেন, প্রভাবশালীরা আমাদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। রাতের আধারে লোকজন দিয়ে আমাদের গুম করবে, মেরে ফেলবে-এমনি হুমকি দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি।
প্রভাবশালীদের অনেকের সাথে একাধীকবার যোগাযোগ করা হলেও তারা কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুহুল আমিন বলেন, কাফ্রিখাল বিলটি কাফ্রিখাল বিলেরপাড় মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লি. ৬ বছরের জন্য লিজ গ্রহন করেছে। ইতোমধ্যে তাদের বিলটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারাই ৬ বছর বিলটি দায়-দায়িত্ব পালন করবে।
এম২৪নিউজ/আখতার