প্রতিষ্ঠার ২২ বছরেও পূর্ণতা পায়নি বেগম রোকেয়া ম্মৃতি কেন্দ্র

মো: শামীম আখতার ।।

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দে যে লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নিয়ে নারী আন্দোলনের পথিকৃত বেগম রোকেয়ার স্মৃতি কেন্দ্রটি স্থাপন করা হয় এর সঠিক তদারকি ও দেখভালের অভাবে বর্তমানে করুনদশায় পরিণত হয়েছে। দুর দুরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা স্মৃতি কেন্দ্র্র দেখতে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যান। কেননা তেমন কোন কার্যক্রম নেই সেখানে, এছাড়া চুক্তিভিত্তিক সঙ্গীত শিক্ষক নিয়োগ করা হলেও কোন বেতন ভাতা পাননা তারা প্রায় এক বছর ধরে। প্রতি বছর রোকেয়ার জন্ম ও মৃত্যু দিবস উপলক্ষে সরকারীভাবে শুধুমাত্র তিন দিনের জন্য ডিসেম্বর মাসের ৯-১১ তারিখ পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করা হয়।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, রোকেয়া অনুরাগী মানুষের দাবিতে ১৯৯৭ সালে রোকেয়ার জন্মভিটায় স্মৃতি কেন্দ্রটির ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন করা হয়। স্মৃতি কেন্দ্রে রয়েছে একটি অফিস ভবন, সর্বাধুনিক গেস্ট হাউজ, মিলনায়তন, ডরমেটরি, গবেষণা কক্ষ, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, গ্রন্থাগার, আবাসিক সুবিধাসহ বিশাল অবকাঠামো উন্নয়ন করা হয়। স্মৃতি কেন্দ্রের ভেতর মনোরম পুকুরপাড়ে তৈরি করা হয় বেগম রোকেয়ার একটি ভাস্কর্য। ২০০১ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর উদ্বোধন করেন। গ্রন্থাগার থাকলেও সেখানে যুগউপযোগি বই ও সাময়িকী নেই। মিলনায়তনের অবস্থাও করুন । লোকোবল সংকটের কারণে মহিলাদের সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যন্ত্রপাতি থাকলেও কার্যক্রম না থাকায় ধুলো-ময়লা জমে তা নষ্ট হওয়ার পথে। সংগ্রহ শালার স্থাপনা থাকলেও মুলত সংগ্রহে কিছুই নেই সেখানে, বিদ্যুত বাতিগুল নষ্ট থাকার কারণে স্মৃতি কেন্দ্রটি থাকে অন্ধকারে। এ অবস্থায় অনেক দুর-দুরান্ত থেকে বেগম রোকেয়ার জন্মভিটা দেখতে এসে দর্শনার্থীরা হতাশ হয়ে ফিরে যান। একইভাবে রোকেয়ার বাস্থভিটায় বিদ্যুতের লাইন স্থাপন করা থাকলেও আলো জলেনা কখনো। ফলে দুর দুরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা একটু সন্ধ্যায় আসলেও উকিমেরে দেখার সুযোগটাও মিলেনা আলোর ব্যবস্থা না থাকার কারণে। এদিকে জেলা পরিষদ কতৃক স্থাপিত ছহি কুরআন শিক্ষার ব্যবস্থাসহ হত দরিদ্রদের প্রশিক্ষণের জন্য গড়ে তোলা ভবনটিও বন্ধ রয়েছে বছরেব পর বছর সেই সাথে অবকাঠাম নষ্টহয়ে যাওয়ার ফলে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে রেষ্টহাউজটি।

এদিকে পজেলার পায়রাবন্দে নারী মুক্তি আন্দোলনের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ও মৃত্যু দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে (৯-১১ ডিসেম্বর) তিন দিনব্যাপি বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেছে উপজেলা ও জেলা প্রশাসন। আবারো তিনদিনের জন্য আলোকিত হয়ে উঠবে বেগম রোকেয়ার জন্মভিটা মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ। তবে এবার দীর্ঘদিনের ব্যবহত স্কুল মাঠের পরিবর্তে আলোচনাসহ যাবতীয় অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার জন্য কলেজ মাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে। রংপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে দিবসটি পালনের জন্য ইতিমধ্যে রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্রটি ধোঁয়া-মোছার কাজ সম্পন্ন করা হয়। কাল থেকে মানুষের পদচারনায় প্রাণ ফিরে পাবে তাঁর জন্মভিটার ‘বেগম রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্র।’

বেগম রোকেয়া স্মৃতি সংসদের সভাপতি রাজু আহম্মেদ ও রফিকুল ইসলাম দুলাল বলেন যে লক্ষ্য উদ্দেশ্য নিয়ে বেগম রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্রটি চালু করা হয়েছে তার পুরোপুরি বাস্তবায়ন চাই। বেগম রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্রের উপ-পরিচালক আব্দুল্যাহ আল-ফারুক বলেন, সংস্কার কাজের জন্য ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমরা রোকেয়া গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য নানাবিদ পদক্ষেপ নিয়েছি, আশা করছি অছিরে বাস্তবায়ন হবে তার প্রতিষ্ঠা কালীন লক্ষ্য উদ্দেশ্য। রোকেয়া অনুরাগী মানুষের দাবি বেগম রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্রসহ যাবতীয় কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গ ভাবে চালুকরার।