
নিরব ভূমিকায় প্রশাসন ।।
স্টাফ রিপোর্টার:
মিঠাপুকুরে ঘাঘট নদীর দমদমা আঠারোকাঠা এলাকায় প্রায় ৩ কিলোমিটার নদী খনন করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। মাস ছয়েকের মধ্যে খননকৃত প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের বালুগুলো লুটপাট করেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র। এছাড়াও, নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনের মহাযজ্ঞ চালাচ্ছে ওই চক্রটি।
উপজেলার ১৬টি পয়েন্টে খননকৃত বালু নিলাম ডাকের ব্যবস্থা করলেও রহস্যজনক কারণে এই বালুগুলো নিলাম দেয়নি প্রশাসন। অনেকটা নিশ্চুপ ভুমিকা পালন করছেন প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দমদমা আঠারোকাঠা এলাকায় প্রায় ৩ কিলোমিটার নদী খনন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। খননের বালুগুলো স্তুপ করে রাখা হয় নদীর পাড়ে। ওই বালুগুলোর উপর চোখ পড়ে ঠিকাদারের প্রতিনিধি আলম ও পায়রাবন্দ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্পাদক রফিকুল ইসলামের। তারা স্তুপ করে রাখা বালুগুলো বিক্রি শুরু করেন। ৬ মাসে প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের বালুগুলো হরিলুট করছেন তারা। নদীর খননকৃত বালু শেষ হলে, নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে পূণরায় বালু উত্তোলন করছেন। প্রতিদিন শতাধীক ট্রাক ও ট্রাক্টর করে ওই বালুগুলো বহন করা হচ্ছে। কিন্তু, রহস্যজনক কারণে প্রশাসন কোন ব্যবস্থা গ্রহন করছে না।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দমদমা আঠারো কাঠা এলাকায় ড্রাম ট্রাক ও ট্রাক্টরে করে বালুগুলো নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। নদী খননের বালুগুলো প্রায় শেষ পর্যায়ে। তাই, নতুন করে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
বালু হরিলুটের সংবাদটি ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন
এসময় কথা হয় স্থানীয় আকবর আলীর সাথে। তিনি বলেন, সরকারীভাবে খনন করে বালু উত্তোলন করে রফিকুল মাস্টারের জমিতে রাখা হয়েছিল। এই সুবাদে বালুগুলো রফিকুর ইসলাম মাস্টার ও আলম মিয়া বিক্রি করে দিয়েছে। কিন্তু, প্রশাসন কোন ব্যবস্থা গ্রহন করছে না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ট্রাক্টর চালক জানান, প্রায় ৬ মাস ধরে বালুগুলো নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। রফিকুল মাস্টার ঠিকাদারের কাছে বিক্রি করেছে। আমরা ট্রাক্টরে করে সেগুলো নিয়ে যাচ্ছি।
পায়রাবন্দ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, নদী খনন করে আমার জমিতে বালুগুলো রাখা হয়েছিল। পরে সেগুলো বিক্রি করা হয়েছে। এর সাথে শুধু আমি নই, ঠিকাদারের প্রতিনিধি আলম মিয়া ও স্থানীয় কয়েকজন রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি আলম মিয়া বলেন, আমরা বালুগুলো খনন করে দিয়েছি। পরে বালুগুলো স্থানীয় প্রভাবশালীরা বিক্রি করে দিয়েছে। এর সাথে আমি জড়িত নই।
পায়রাবন্দ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফয়জার রহমান খাঁন বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড নদী খনন করেছে। বালুগুলো কিভাবে হরিলুট হলো আর প্রশাসন কেন ব্যবস্থা গ্রহন করছেন না সেটি আমি বলতে পারছিনা।
উপজেলা নির্বাহি অফিসার মামুন ভূঁইয়া বলেন, তদন্ত করে এ বিষয়ে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, নদী থেকে বালু খনন করে পাড়ে রাখার পর ভুমি কার্যালয়ে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদেরই নিলামের ব্যবস্থা করার দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কেউ বালু লুটের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
বালু হরিলুটের সংবাদটি ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন
এম২৪নিউজ/আখতার