
তালিকায় নাম থাকলেও দুঃস্থ্যরা পাননি মানবিক সহায়তার টাকা।।
স্টাফ রিপোর্টার:
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বড় হযরতপুর গ্রামের আব্দুল জলিল মিয়ার ছেলে দিনমজুর শাহাজাহান আলী। করোনাকালীন সময়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরে প্রধানমন্ত্রী’র মানবিক সহায়তা তালিকায় নাম ছিল তার। বিতরণ শেষ হয়ে গেলেও টাকা পাননি তিনি। শুধু শাহাজান আলী নয়- ওই গ্রামের মিলন মিয়া, সাহেব আলী, আলামিন মিয়াও পায়নি মানবিক সহায়তার টাকা। দুঃস্থ্য-অসহায়দের জন্য বরাদ্দের টাকা ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বড় হযরতপুর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য শাহীন মিয়া, নীলা রানী ও সংরক্ষিত ইউপি সদস্য কোহিনুর খাতুন নিজেদের নামে নিয়েছেন মানবিক সহায়তার টাকা। ভ্যান চালক ও দিনমজুর সেজে স্বামী, ছেলে, স্ত্রী ও মায়ের নামেও টাকা তুলেছেন ওই ইউপি সদস্যরা।
উপজেলা ত্রাণ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মিঠাপুকুরের ১৭ ইউনিয়নে ৮ হাজার ৫শ জনকে দেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তার টাকা। এরমধ্যে বড় হযরতপুর ইউনিয়নে ৫শ জনের বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
অভিযোগ উঠেছে, বড় হযরতপুর ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দকৃত অর্থ অনেক দুঃস্থ্য ও অসহায় পায়নি। তালিকায় নাম থাকলেও ইউনিয়ন পরিষদ হতে ফিরে যেতে হয়েছে খাঁলি হাতে। অনেকের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে, তুলে নেওয়া হয়েছে বরাদ্দের টাকা। তেমনি একজন রামেশ্বরপাড়া গ্রামের নিরাপদ টপ্প।
তিনি বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদে আমার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও মোবাইল নম্বর জমা দিয়েছিলাম। কেউ কিছু বলেনি, টাকাও পায়নি। পরে শুনেছি, চেয়ারম্যান টাকাগুলো তুলে নিয়েছে।’ বড় হযরতপুর গ্রামের মিলন মিয়া বলেন, ‘হামার গরিব মানুষের ট্যাকা, চেয়ারম্যান মারি দিলো। হামরা বিচার চাই, কঠোর বিচার।’
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই ইউনিয়নের নানকর রসুলপুর গ্রামের আবুল কাশেম মিয়ার ছেলে রফিকুল ইসলাম, খামার ফতেপুর গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে মজনু মিয়া, আস্করপুর গ্রামের ইব্রাহিম মিয়ার ছেলে ইসমাইল হোসেনের নাম তালিকায় থাকলেও টাকা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। এছাড়াও, অনেকের নাম রয়েছে মানবিক সহায়তা কর্মসূচী ও ভিজিএফ এর উভয় তালিকায়। তাদেরকে ভিজিএফ’র ৪শ ৫০ টাকা দিয়ে মানবিক সহায়তার ৫শ টাকা উত্তোলন করেছেন চেয়ারম্যান। এদেরমধ্যে লতিবপুর গ্রামের ছালেহা বেগম, সেরুডাঙ্গা গ্রামের ইশরাত জাহান, বড় হযরতপুর গ্রামের ফয়জার মন্ডল ও হযরত আলী এবং রামেশ্বরপাড়া গ্রামের আঃ সালামের খোঁজ মিলেছে। ওই ইউনিয়নের নামে বে-নামে দুঃস্থ্যদের টাকা আত্মসাতের অভিাযোগ উঠেছে চেয়ারম্যান রুস্তম আলী মন্ডলের বিরুদ্ধে।
ওই ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য শাহীন মিয়া নিজ নামে, তার স্ত্রী আরজিনা বেগম ও মা সাহার বেগমের নামে নিয়েছেন মানবিক সহায়তার টাকা। সংরক্ষিত মহিলা সদস্য কোহিনুর খাতুন, ভ্যান চলক সেজে তার স্বামী কফিল মিয়া ও ছেলে রুবেল মিয়া টাকা উত্তোলন করেছেন। ইউপি সদস্য নীলা রানী’র নাম রয়েছে মানবিক সহায়তার তালিকায়।
বড় হযরতপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রুস্তম আলী মন্ডল বলেন, ‘যারা বলেছেন টাকা পায়নি, তারা মিথ্যা বলেছেন। ইউএনও মহোদয়ের নির্দেশে অনেকের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামুন ভূইয়া বলেন, ‘ এরকম কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’
এম২৪নিউজ/আখতার