
মো: শামীম আখতার।।
রংপুরের মিঠাপুকুরে জুস খাইয়ে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় অজ্ঞানপার্টির তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় ছিনতাই হওয়া চার্জার রিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোনসহ নগদ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে বুধবার রাতে উপজেলার ভাংনী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- উপজেলার কাফ্রিখাল ইউনিয়নের কিশামত জালাল গ্রামের আব্দুল ওহাবের ছেলে নুর আলম ওরফে রানা (৩৮), পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ থানার কিসমত শ্রীনগর গ্রামের রশিদ বেপারীর মেয়ে সাথী আক্তার সুমাইয়া (১৮) ও বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানার শাকবুনিয়া গ্রামের স্বপন জমারদারের মেয়ে সাথী আক্তার সুমি (২০)।
থানা পুলিশ জানায়, গত ৮ মার্চ বেলা ১১টায় পীরগঞ্জের পদ্মহার গ্রামের অটোচালক আব্দুর রাজ্জাক (৪০) অটোরিকশা নিয়ে চতরা বাজারে যান। এসময় চারজন যাত্রী দিনাজপুর যাবে বলে অটোরিকশা ভাড়া নেন। পরে সেখান থেকে নবাবগঞ্জ বাজারে গিয়ে একটা হোটেলে দুপুরের খাবার খান তারা। এরপর ভেন্ডাবাড়ি এসে চালকসহ যাত্রী ৪ জনও জুস খান। এসময় কৌশলে তাকে জুসের মধ্যে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ানো হয়। এতে তিনি কিছুক্ষণ পর অজ্ঞান হয়ে পড়েন। অজ্ঞান হওয়ার পর চালক আব্দুর রাজ্জাককে মিঠাপুকুর থানাধীন রাণীপুকুর এলাকায় ফেলে দিয়ে অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায় চক্রটি। পরে স্থানীয়রা তাকে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় গত ১২ মার্চ জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অটোরিকশা চুরির অভিযোগে মিঠাপুকুর থানায় অভিযোগ করেন আব্দুর রাজ্জাক। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
এরই মধ্যে বুধবার সন্ধ্যায় মিঠাপুকুরের ভাংনী বাজার এলাকা থেকে খবর আসে, জুস খাইয়ে অটোরিকশা ছিনতায়ের চেষ্টাকালে দুই নারীকে আটক করেছে স্থানীয়রা। খবর পেয়েই মিঠাপুকুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে আটক করে।
তাদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে দলের মূলহোতা নুর আলম ওরফে রানাকে রংপুর শহরের সুলতানের মোড় এলাকা থেকে রাতেই গ্রেফতার করে পুলিশ। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি চার্জার রিকশা, দু’টি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, একটি মোটরসাইকেল, সাতটি চোরাই মোবাইল ফোন, ৫০ হাজার টাকা, চোরাই কাজে ব্যবহৃত চারটি রেঞ্জ, একটি পাইপ রেঞ্জ, ও দু’টি স্টার রেঞ্জ উদ্ধার করা হয়।
রংপুর জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (ডি-সার্কেল) কামরুজ্জামান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এ গ্রæপের মূল পরিকল্পনাকারী নুর আলম। তারা প্রথমে যাত্রীবেশে চার্জার রিকশা, অটোরিকশা বা মোটরসাইকেল ভাড়া করেন। তারপর চালকের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক তৈরি করে তাকে জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ানো হয়। এরপর চালক অচেতন হয়ে গেলে তাকে সুবিধামত জায়গায় ফেলে দিয়ে চার্জার রিকশা, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, মোবাইল, টাকাসহ মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে পালিয়ে যান।
মিঠাপুকুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাকির হোসেন বলেন, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মিঠাপুকুর থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
এম২৪নিউজ/আখতার