
স্টাফ রিপোর্টার:
রংপুরের মিঠাপুকুরে টানা ভারি বর্ষণে পানির তোড়ে কালুরঘাট ব্রীজের সংযোগ রাস্তা ভেঙ্গে ঘাঘট নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। এর ফলে মিঠাপুকুর ও পীরগাছা উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারন মানুষ। মানুষের নানাবিদ সমস্যা সৃষ্টির সাথে সাথে মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে সেতুটি।
উপজেলা চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সরকার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামুন ভূঁইয়া ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
স্থানীয়রা জানায়, মিঠাপুকুর ও পীরগাছা উপজেলার মধ্যদিয়ে বয়ে গেছে ঘাঘট নদী। মিঠাপুকুর উপজেলার অংশে ভাংনী ইউনিয়নের ঠাকুরবাড়ি গ্রামে ঘাঘট নদীর একটি ঘাট ‘কালুরঘাট’ নামে পরিচিত। এখানে দুই উপজেলার মানুষের নৌকায় পারাপার ছিল একমাত্র ভরসা। তাও আবার বেশি রাত হলে নৌকা বন্ধ থাকতো। দীর্ঘ দিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালে এই ঘাটে একটি ব্রীজ নির্মান করা হয়। নাম রাখা হয় কালুরঘাট ব্রীজ। ব্রীজটি নির্মাণের ফলে দুই উপজেলার মানুষের জীবন-জীবিকায় ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। কিন্তু সাম্প্রতিক বন্যা তাদের সেই স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে। পানির তোড়ে ব্রীজের সংযোগ সড়ক ভেঙ্গে নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। ফলে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।
স্থানীয় আউয়াল মিয়া বলেন, ব্রীজের দক্ষিণ পাশের সংযোগ রাস্তা ভেঙে নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় শুধু এপার-ওপারের মানুষের মুখ দেখা-দেখি ছাড়া আর কিছুই করার নেই। দ্রুত রাস্তা মেরামতসহ ব্রীজের সংযোগ দিয়ে দুই উপজেলার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার দাবী জানান তিনি।
ভাংনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান জানান, উপর মহলের কর্মকর্তারা ভেঙ্গে যাওয়া স্থান পরিদর্শন করেছেন, আশা করছি দ্রুত একটা ব্যবস্থা হবে।
মিঠাপুকুর উপজেলা প্রকৌশলী আক্তারুজ্জামান বলেন, প্লাস্টিকের রাস্তা দিয়ে সংযোগ সড়ক মেরোমত কাজ শুরু করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) গত বছর বর্ষার কারণে নদী ভাঙনরোধে ১৫০ মিটার ব্লকের নির্মাণকাজ শেষ করতে পারেনি। পানি নামতে শুরু করলে তারা কাজটি করে দেবে।
এম২৪নিউজ/আখতার