প্রলোভনে টার্কি খামারিদের ৮ কোটি টাকা গায়েব!

নিউজ ডেস্ক:

অক্টালিংক এগ্রো লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠানের ছয় পরিচালকের বিরুদ্ধে আট কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। খামারিদের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন ও বেকার পুর্নবাসনের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় আট কোটি টাকা আত্মসাত করে প্রতিষ্টানটির কর্মকর্তারা এখন গা ঢাকা দিয়েছে। 

শনিবার দুপুরে রংপুরের ধাপ এলাকায় নিজ চেম্বারে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই অভিযোগ করেছেন অক্টালিংক এগ্রো লিমিটেড কোম্পানির পরিচালক ডা. সৈয়দ আবু তালেব ও সাবেক চেয়ারম্যান মওদুদা আখতার।

এই ছয় পরিচালক যাতে দেশ ত্যাগ করতে না পারে সে জন্য ১৮ নভেম্বর রংপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে একটি মামলা হয়েছে।

আরো পড়ুন: মিঠাপুকুরে স্ত্রীর কথায় মাকে পেটালো ছেলে, থানায় অভিযোগ

মামলায় রংপুর মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. সৈয়দ আবু তালেব জানান, তার বাড়ি মিঠাপুকুরে। ওই এলাকার শাকিল নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে ইসমাইল হোসেন শাওনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে শাওন বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ও তার স্ত্রীকে স্থানীয় খামারিদের আর্থিকভাবে সাবলম্বী করে তোলাসহ এলাকার বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিনিয়োগের প্রস্তাব দেন। 

এরই ভিত্তিতে ২০১৮সালের ৩ এপ্রিল জয়েন্ট স্টক কোম্পানি হতে অক্টালিংক এগ্রো লিমিটেড নামে এই কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্ত হয়। ওই সময়ে তার স্ত্রী মওদুদা আখতারকে চেয়ারম্যান, ইসমাইল হোসেন শাওন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও  আবু তালেবসহ আরো ছয়জনকে পরিচালক করা হয়। ব্যক্তিগত কারণে এ বছরের ২৫ জুন কোম্পানির চেয়াম্যান পদ থেকে মওদুদা আখতার পদত্যাগ করেন।

আরো পড়ুন: দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে : প্রধানমন্ত্রী

অক্টালিংক এগ্রো লিমিটেডের এই পরিচালকের অভিযোগ, কোম্পানির কার্যক্রম শুরুর পর থেকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাওন ও বাকি পরিচালকরা কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ব্যবসা পরিচালনা করতে থাকেন। এমনকি গ্রাহকদেরকে যুক্ত স্বাক্ষরে চেক দেয়ার নিয়ম থাকলেও উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে শুধুমাত্র কোম্পানির চেয়ারম্যানের একক স্বাক্ষর করা চেক সরবরাহ করে। 

কোম্পানির কার্যক্রম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে আয়-ব্যয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার জন্য সব পরিচালককে নিয়ে সভার আহবান করা হলেও কেউ কোনো সাড়া না দিয়ে কালক্ষেপণ করে। 

বিষয়টি চাটার্ড অ্যাকাউন্টিং ফার্মের মাধ্যমে সম্পন্ন করার জন্য তাগাদা দেয়া হলে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইসমাইল হোসেন শাওন, পরিচালক আরমানুল হক, শফিকুল ইসলাম, ফিরোজ কবির, আবুল কালাম আজাদ ও তাজুল ইসলাম কোনো কিছু না জানিয়ে গ্রাহকের আট কোটি টাকার অধিক পাওনা রেখে গা ঢাকা দেয়।

আরো পড়ুন: রংপুরে যাত্রা শুরু করলো সওদাগর ডট কমের ট্রেড সেন্টার

কোম্পানির পরিচালক হিসেবে এই ঘটনায় নিজের ব্যর্থতা ও দায়ভার এড়িয়ে যাবার সুযোগ নেই উল্লেখ করে ডা. সৈয়দ আবু তালেব জানান, গা ঢাকা দেয়া পরিচালকদের একজন ছাড়া বাকিরা সবাই দিনাজপুর, নওগাঁ ও গাইবান্ধার বাসিন্দা। 

ডা. সৈয়দ আবু তালেবের অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেছেন আরেক পরিচালক ফিরোজ কবির। তিনি বলেন, আমাদের কোম্পানি ক্ষতিগ্রস্ত। অনেক টাকা নষ্ট হয়েছে। একারণে কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কোম্পানিতে চেয়ারম্যান মওদুদা আখতার ও তার স্বামী পরিচালক সৈয়দ আবু তালেবের ৪০ ভাগ শেয়ার রয়েছে। 

অন্যদিকে মিঠাপুকুরের টার্কি মুরগি খামারের সভাপতি শহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন জানান, অক্টালিংক এগ্রো লিমিটেড ঝুঁকিবিহীন চুক্তি ভিত্তিক টার্কি খামার ব্যবস্থাপনায় সর্বনিম্ন ২৫ হাজার ৫০০ থেকে ১০ লাখ ২০ হাজার টাকার প্যাকেজে সহস্রাধিক খামারির কাছ থেকে প্রায় ১৫ কোটি টাকা নিয়ে খামার পরিচালনা করেন। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী ৯০ থেকে ৯৯ দিন পূর্ণ হলে তারা খামারিদের টাকা পরিশোধ করছে নাই

সূত্র: ডেইলী বাংলাদেশ।

One thought on “প্রলোভনে টার্কি খামারিদের ৮ কোটি টাকা গায়েব!

Comments are closed.