গাইবান্ধার তরুণদের ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ

নিউজ ডেস্ক:

নাম চান মিয়া ব্যাপারী। পেশায় সবজি ও আলু বিক্রেতা। প্রায় ১ মাস হলো তার বেচাকেনা নেই বললেই চলে। বাজারে ক্রেতা কম আবার কাঁচা সবজি নষ্ট হয়ে যায় তাড়াতাড়ি। গত এক মাস আগেও ভালো বেচাকেনা হত তার। দিন এনে দিন খেয়ে জীবন-যাপন করতেন। করোনার করুন গ্রাসে গত ২০ দিন হলো কোনো রকম এক বেলা খেয়ে দিন পার করছেন। প্রতিদিন ভাঙা ভ্যান গাড়ি নিয়ে বের হন তিনি। আজ হঠাৎ সব বিক্রি করে হাসি মুখে বাড়ি ফিরছেন চান মিয়া।

করোনার প্রকোপে প্রায় ৪৬ দিন ধরে লকডাউনে স্থবির পুরো দেশ। এই মধ্যম আয়ের দেশে দিন আনা দিন খাওয়া মানুষের সংখ্যাই বেশি, খুব কম মানুষ আছে যারা নিশ্চিন্তে ঘরে বসে খেতে পারেন। অসহায় হয়ে পড়েছে হতদরিদ্র, ছিন্নমূল, দিনমজুর ও অসহায় মানুষের পাশাপাশি নিম্ন-মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। দেশের এই ক্রান্তিকালে দুই সপ্তাহের প্রস্তুতিতেই কর্মহীন হয়ে পড়া গাইবান্ধার ২২০ টি দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারকে উপহার হিসেবে প্রায় ১ সপ্তাহের খাদ্য সামগ্রী দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে গাইবান্ধার এসএসসি ২০১২ ব্যাচের ছাত্রবৃন্দ।

সামাজিক দূরত্বের কথা মাথায় রেখে তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে টোকেন বিতরণ করে। পরে ওইসব বাড়িতে নিজ দায়িত্বে তারা উপহার পৌঁছিয়ে দেয়। সামগ্রীর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল চাল, ডাল, তেল, কাঁচা বাজার, সাবান, জীবাণুনাশক ও শুকনা খাবার।

তরুণ শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমাদের গাইবান্ধা পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত বাসিন্দারা অনেকেই নানাভাবে সাহায্য পায়। কিন্তু পৌরসভার বাহিরের যারা থাকেন তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব থেকে বঞ্চিত। আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল এসব বঞ্চিতদের পাশে দাঁড়ানো। তারা যেন অন্তত এক সপ্তাহ নিশ্চিন্তে খেতে পারেন।’

শিক্ষার্থীরা আরো জানান, সরকারিভাবে ছুটি ঘোষণার পর থেকেই খেটে খাওয়া মানুষ চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে। বিশেষ করে দিনমজুর, রিকশা-ভ্যান চালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। দেশের এই চরম মুহূর্তে আমরা যার যার জায়গা থেকে যতটুকু পেরেছি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছি। সবাই মিলে বেঁচে থাকার জন্যই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।

সূত্র: ইত্তেফাক অনলাইন।