গাইবান্ধায় দাদন ব্যবসায়ীর নির্যাতনে বাসচালকের আত্মহত্যা

অনলাইন ডেস্ক:

গাইবান্ধা সদর উপজেলায় কোব্বাস আলী (৪৫) নামে এক বাসচালক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার বিকালে সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের রথবাজার এলাকায়। সোনা মিয়া নামে এক দাদন ব্যবসায়ীর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে কোব্বাস আলী আত্মহত্যা করেছেন—এমন অভিযোগ এনে সোমবার রাতে সদর থানায় মামলা করা হয়েছে।

লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মঙ্গলবার সকালে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। নিহত কোব্বাস আলী ঐ গ্রামের আজহার আলীর ছেলে। তিনি রংপুর থেকে চট্টগ্রাম রুটে শ্যামলী পরিবহনের বাসের চালক ছিলেন। দাদন ব্যবসায়ী সোনা মিয়া একই উপজেলার পশ্চিম কোমরনই গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে।

গাইবান্ধা সদর থানার ওসি মাহফুজার রহমান জানান, এ ব্যাপারে সোমবার রাত ১১টার দিকে সদর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার একটি মামলা হয়েছে। দাদন ব্যবসায়ী সোনা মিয়াকে একমাত্র আসামি করে নিহতের স্ত্রী হাসিনা বেগম বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্ত দাদন ব্যবসায়ীকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

খোলাহাটি ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সৈয়দ মোস্তফা জামান মিন্টু জানান, কোব্বাস আলী প্রায় এক বছর আগে দাদন ব্যবসায়ী সোনা মিয়ার নিকট ৩০ হাজার টাকা ধার নেন। পরে সেই টাকা সুদাসলে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় দাঁড়ায়। সেই টাকা দিতে না পারায় গত বুধবার কোব্বাস আলীকে মারপিট এবং নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বাড়িভিটাসহ চার শতক জমি লিখে নিতে বায়নাপত্রে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেন দাদন ব্যবসায়ী সোনা মিয়া। তিন মাস পর ঐ জমি রেজিস্ট্রি দলিল হবে মর্মে স্ট্যাম্পে এই স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

নিহতের স্ত্রী হাসিনা বেগম জানান, এই ঘটনায় গত সোমবার দুপুরে কোব্বাস আলী গাইবান্ধা শহরের থানাপাড়া এলাকার এক লোকের মাধ্যমে সদর থানায় জিডি করতে যান। এ খবর জানতে পেরে দাদন ব্যবসায়ী ও তার লোকজন কোব্বাস আলীকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং তাকে শহর থেকে যেতে বাধ্য করে। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি বাড়ি ফিরেন। এরপর ক্ষোভে অভিমানে সবার অজান্তে নিজ ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। এ প্রসঙ্গে জানতে দাদন ব্যবসায়ী সোনা মিয়ার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সূত্র: ইত্তেফাক অনলাইন

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply