লিচু গাছে ধরা সেই আম নিয়ে যত নাটক

অনলাইন ডেস্ক:

লিচু গাছে লিচুর পাশাপাশি আমও ধরেছে। ভাবতে আশ্চর্য লাগলেও ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের কোলনী পাড়ার আব্দুর রহমানের বাড়ির লিচুগাছে আমটি দেখা যায়।

জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও সদরের কলোনীপাড়ার আবদুর রহমান লিচু গাছটি লাগান ৫ বছর আগে। ৩ বছরে গাছটিতে মুকুল আসা শুরু হয়। গত বছরের তুলনায় এবার মুকুলের পরিমাণ বেশি, তাই খুশি গৃহকর্তা। কিন্তু আনন্দের সঙ্গে বিস্ময় যোগ হয়েছে অন্য এক কারণে- লিচুর সঙ্গে একই থোকায় ঝুলছে একটি আম। খবর শুনে কৃষি কর্মকর্তারাও ছুটে যান দু’রকম ফল ধরা গাছটির কাছে। কিন্তু এর আগেই রোষাণলের শিকার হয় আমটি।

গাছটির মালিক আবদুর রহমান বলেন, সকালে স্থানীয় সফিকুল ইসলাম সিকিম মেম্বারের ভাতিজা সোহেল রানা আসে আমটি দেখতে। সে বাসায় যাওয়ার পথে একটি মোটরসাইকেল তাকে ধাক্কা দেয়। এ নিয়ে তর্কাতর্কি হলে বিষয়টি সে তার চাচা সিকিম মেম্বারকে অবগত করলে মেম্বার আমার বাসার এখানে আসে। মেম্বারের সঙ্গে তিনজন ছেলেও আসে। এরপর মেম্বারের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয় আমার। এর মাঝেই তিনজনের মধ্যে একজন গাছ থেকে আমটি ছেঁড়ে আর আরেকজন মোটরসাইকেলে বসা ছিল। পরে তারা আমটি নিয়ে চলে যায়।

এরপর থেকেই ওই এলাকার বেশিরভাগ মানুষ এটিকে নাটক বলে অভিহিত করছেন। অবশ্য কেউ কেউ বিষয়টিকে অলৌকিক বলেই ধরে নিয়েছেন। এ নিয়ে সারা দেশে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধিদল বৃহস্পতিবার সেখানে যাবেন বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে বালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সফিকুল ইসলাম বলেন, সকালে আমি সেখানে গিয়ে আবদুর রহমানকে বলেছি, যাতে এখানে একটু ভিড় কম হয়। এখন করোনার সময়, এমনি দেশের অবস্থা ভালো না। এর মাঝে কে আমটি ছিঁড়েছে, আমি চিনি না তাদের। এখন আবদুর রহমান আমার নামে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছেন।

এদিকে গত কয়েক দিন এ ঘটনার কোনো বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা দিতে পারেননি উদ্যানতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা। তবে প্রথম থেকেই কয়েকজন বিশেষজ্ঞ বলে আসছিলেন, যে কেউ আঠা দিয়ে লিচুর ডালে আমটি লাগিয়েও দিতে পারে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আবু হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, বিষয়টি ম্যানুপুলেট করা হয়েছে, সেটা এখন বোঝা যাচ্ছে। হয়তো এটি কেউ আঠা দিয়ে লাগিয়ে দিয়েছিল। অথবা অন্য কোনো কৌশলে এটি করা হয়েছিল।

এদিকে বুধবার বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি আমি জানার পর থেকেই অসম্ভব বলে ধরে নিয়েছি। এমন ঘটনা কোনোভাবে হতে পারে না।

তিনি আরো বলেন, এক গাছে অন্য ফল শুধু গ্রাফটিংয়ের মাধ্যমে সম্ভব। তবে লিচু ও আমের ক্ষেত্রে এটা করা যাবে না। লিচু ও আমের টিস্যু সিস্টেম এক নয়। লিচুর সঙ্গে আমগাছের ডাল জোড়া লেগেছে এমন উদাহরণ নেই। লিচু ও আম এক পরিবারের উদ্ভিদ নয়। সূত্র: ডেইলী বাংলাদেশ

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply