
নিউজ ডেস্ক:
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে গৃহবধূ পেয়ারা বেগমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্বামী আবদুস সালামকে গ্রেফতার করে দিনাজপুর জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। আবদুস সালাম নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের নিজাম উদ্দিনে পেয়ারা বেগমের দ্বিতীয় স্বামী।
নিহত পেয়ারা বেগম জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার আবাদপুর গ্রামের মিরাজ সিকদারের মেয়ে।
শুক্রবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে ঘোড়াঘাট খানার ওসি আজিম উদ্দিন জানান, কয়েক বছর আগের সন্তান রেখে পেয়ারা বেগমের প্রথম স্বামী মারা যায়। এর পর আবদুস সালামের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি।
আবদুস সালাম দিনাজপুরের ফুলবাড়ি উপজেলায় ওয়ালটন কোম্পানিতে চাকরি করতেন। কিন্তু অভাব-অনটনসহ নানা সমস্যায় পারিবারিক অশান্তি চলছিল তাদের সংসারে। অভাব মেটাতে গত রোববার ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশ্য পূর্বপরিকল্পিতভাবে পেয়ারা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়িতে থেকে রওনা দেন সালাম। পথিমধ্যে বিভিন্ন এলাকা ঘুরিয়ে রাতের বেলা ঘোড়াঘাট-হিলি সড়কের সূরা মসজিদ এলাকায় নিয়ে এসে রুটি খাওয়ার কথা বলে রাস্তার পাশে ঝোপের ধারে বসে তারা দুজন। এই সময় স্ত্রী পেয়ারা বেগমের শরীরে থাকা ওড়না গলায় পেঁচিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায় স্বামী সালাম।
পরের দিন রোববার সকালে স্থানীয় লোকজন অজ্ঞাত মরদেহ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দিলে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। প্রাথমিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করতে না পারায় সিআইডি ও পিবিআইয়ের সহায়তায় প্রযুক্তির মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত হয় পুলিশ।
ঘোড়াঘাট খানার ওসি আজিম উদ্দিন আরো জানান, গত ৫ অক্টোবর পেয়ারা বেগমের ভাই মুনছুর আলী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে মামলার তদন্তভার উপপরিদর্শক খুরশীদ আলমকে দেয়া হয়। গত বুধবার সন্ধায় গোয়েন্দা তথ্য ও পারিবারিক তথ্যর ওপর ভিত্তিতে মূল সন্দেহভাজন সালামকে গ্রেফতার করে তারা। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দিনাজপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইসমাইল হোসেনের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। এ ঘটনায় পুলিশ একটি মোটরসাইকেল ও দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে। ডেইলী বাংলাদেশ
এম২৪নিউজ/আখতার