
নিউজ ডেস্ক:
সখের বসে নতুন জাতের ‘গৌরমতি আম’ চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন অধ্যাপক ওসমান গনি। দিনাজপুরের বীরগঞ্জে এ সাফল্য দেখিয়েছেন বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারের অবসরপ্রাপ্ত এই কলেজ শিক্ষক।
খোঁজ নিয়ে গেছে, ছোটোবেলা থেকে প্রকৃতির প্রতি টানি ছিলো উসমান গনির। এরপর থেকে প্রকৃতির নেশা তার পিছু ছাড়েনি। ইংরেজি বিভাগে শিক্ষকতা করেছেন। এই শিক্ষকতা পেশা থেকে অবসরের পর সেই নেশায় ফিরে আসেন। শুরু করেন ফলজ বাগানের কাজ। আগামী প্রজন্ম বিষমুক্ত ফল পাবে এমন চিন্তা থেকেই বীরগঞ্জের দক্ষিণ পলাশবাড়ি করবুলা ডাঙ্গায় তার এই বাগানের উদ্যোগ।
অধ্যাপক ওসমান গনি জানান, রংপুর কারমাইকেল কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এসময় পরিচয় হয় একজন সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে। তার একটি লিচু বাগান দেখে আমার অনুপ্রেরণা আসে। ফুফাত ভাই গোলাম মোস্তফাকে বাগান করার বিষয়টি জানালে তিনি তার বাড়ির পাশে বেশকিছু জমি কিনে দেন। রোপন করা হয় কিছু লিচু এবং ‘গোরমতি’ নামের নতুন জাতের আমের চারা। এই বাগান পরিচর্যার দায়িত্ব দেয়া হয় গোলাম মোস্তফাকে। এখন গাছে গাছে ফলন। ফল বিক্রি করে আয় হয়েছে বেশ।
গোলাম মোস্তফা জানান, সাড়ে ৩ বছরে আগে ৪০ হাজার টাকায় রাজশাহী থেকে ১০০ গৌরমতি নতুন জাতের আমের চারা রোপন করা হয়। এরপর মা গাছ থেকে কলম করে আর কিছু চারাসহ ১ একর ২০ শতক জমিতে ২৪০ আমের চারা রোপন করা হয়। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে বাগান পরিচর্যা শুরু হয়।
গোলাম মোস্তফা আরো জানান, গত বছর ফলন আসলেও এবছর প্রথম বাণিজ্যিকভাবে আম সংরক্ষণ করা হয়। আম সংরক্ষণের জন্য রাজশাহীর চাপাই এগ্রো থেকে ৩ টাকা ৫০ পয়সা দরে প্যাকেট কিনে ১৭ হাজার আম ব্যাগিং করা হয়। বাগান সংরক্ষণে বাশ এবং পরিচর্যার শ্রমিক মজুরি, সার ও পানি দেয়াসহ সব মিলে এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। বাগানের আম করা হয়েছে ৭ লাখ টাকায়। মৌসুম শেষে আম পাকা শুরু হয় তাই আমের দাম পাওয়া যায় ভালো। আশা করছি আগামী বছর আরো বেশি ফলন হবে। বেশি দামে আম বিক্রি করা যাবে। পাশাপাশি বাগান থেকে ২১ হাজার চারা কলম করা হয়েছে। প্রতি চারা ১৩০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার আবু রেজা আসাদুজ্জামান জানান, ‘গৌরমতি’ আম এই উপজেলায় প্রথম। অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক এই আমের বাগান করেছেন। তিনি সফলতা পেয়েছেন। এই আম মৌসুম শেষে আসে। ব্যাগিং পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হয় বলে বিষ ও জীবাণুমুক্ত থাকে। আমরা তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছি। সূত্র: ডেইলী বাংলাদেশ
এম২৪নিউজ/আখতার