সুপারি গাছে বেঁধে মাদরাসাছাত্রকে পেটাল প্রতিবেশী

অনলাইন ডেস্ক:

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে এক মাদরাসাছাত্রকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। বুধবার সকালে ওই উপজেলার ঘোড়াবান্দ কেরানীপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

নির্যাতনের শিকার মো. মিনহাজ ওই গ্রামের মো. ছইদুল ইসলামের ছেলে ও জেলা সদরের ফরিদপুর গোরস্তান মাদরাসার শিক্ষার্থী। করোনাভাইরাসের কারণে তিনি বাড়িতে ছিলেন। সময় কাটাতে প্রতিবেশী মো. আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী রমেনা বেগম, মেয়ে আফরোজা খাতুন ও ছেলে রুহান ইসলামকে আরবি পড়াতেন তিনি।

স্থানীয়রা জানায়, বুধবার সকালে আরবি পড়াতে গেলে মেয়ের শ্লীলতাহানি চেষ্টার অভিযোগে মিনহাজকে মারধর শুরু করেন আবু বক্কর। ওই মিনহাজ পালিয়ে যান। ওইদিন দুপুরে তাকে নানাবাড়ি নাটুয়াপাড়া থেকে ধরে এনে বাড়ির সামনের সুপারি গাছে বেঁধে ফেলেন বক্কর। এরপর শুরু করেন মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন। ওই সময় মিনহাজকে উদ্ধার করতে আসা পরিবারের লোকজনকেও মারধর করা হয়। পরে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় মিনহাজ ও তার পরিবারকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।

আহত মিনহাজ বলেন, ছয় মাস ধরে ওই পরিবারকে আরবি পড়াচ্ছি। এ পর্যন্ত এক মাসের বেতন পেয়েছি। ঘটনার দিন আফরোজা পড়া ভুল করলে তাকে মারি। পরে আফরোজা কাঁদতে কাঁদতে বিষয়টি তার মাকে গিয়ে বলে। পরে তার বাবা এসে আমাকে মারধর শুরু করে। আমি পালিয়ে গিয়ে আত্মরক্ষা করি। পরে দুপুরে আমাকে আবার ধরে নিয়ে এসে গাছে বেঁধে লাঠি দিয়ে মারধর করে।

অভিযুক্ত মো. আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী রমেনা বেগম বলেন, আরবি পড়ার এক পর্যায়ে আমি বাড়ির বাইরে যাই। তখন মিনহাজ আমার মেয়েকে আরবি বই শপথ করিয়ে না বলার শর্তে টিউবল পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে সে শরীরের কাপড় খোলার চেষ্টা এবং ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। মেয়ের চিৎকারে আমরা ছুটে এলে সে পালিয়ে যায়। পরে তাকে আটক করে শাসন করেছি। তাকে পুলিশে না দিয়ে নিজে শাসন করা ভুল হয়েছে।

মিহাজের বাবা মো. ছইদুল ইসলাম বলেন, আমি বৃহস্পতিবার বীরগঞ্জ থানায় আবু বক্কর সিদ্দিক, তার স্ত্রী রমেনা বেগম, আবু বক্কর সিদ্দিকের শ্যালক মো. আশরাফুল ইসলামকে আসামি করে মামলা করেছি। এখন আসামিরা আমার ছেলে ও পরিবারসহ যারা ভিডিও করেছে তাদের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন মামলার হুমকি দিচ্ছে। আমার মা মরা ছেলেকে নির্মমভাবে গাছে বেঁধে মেরেছে। আমি বিচার দাবি করছি।

বীরগঞ্জ থানার ওসি মো. আব্দুল মতিন জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে আবু বক্কর ও আশরাফুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরেকজনকে গ্রেফতার ও তদন্ত শেষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

সূত্র: ডেইলী বাংলাদেশ।