
রংপুর অফিস:
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার বিড়ি শিল্পনগরী হারাগাছে নগ্ন ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে সোহেল রানা (২৭) নামের এক ভুয়া এসআইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার দুপুরে এ ধর্ষককে আদালতে চালান দেয়া হয়েছে। সে লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার ছিরাগঞ্জ চুলকাগ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হারাগাছ পৌরসভার বানুপাড়া কলেজ মাঠ এলাকা থেকে হারাগাছ মেট্রোপলিটন থানাপুলিশ গ্রেপ্তার করে।
হারাগাছ মেট্রোপলিটন থানা ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২৬ সেপ্টেম্বর সোহেল হাতীবান্ধা থেকে হারাগাছে আসে এবং নগ্ন ভিডিও পরিবারের কাছে দেখানোর ভয় দেখিয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করে। ৩ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে আবারও হারাগাছে গিয়ে আবার সেই নারীর ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে ধর্ষক সোহেল। এ সময় গৃহবধুর চিৎকারে পাশের ঘর থেকে স্বামী বের হয়ে এসে সোহেলকে আটক করে হারাগাছ পৌর কাউন্সিলরের পরামর্শে আটক সোহেলকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
এজাহারের বাদী নির্যাতিত গৃহবধূ জানান, প্রায় দুই বছর আগে মোবাইল ফোনে পরিচয় হয় সোহেলের সাথে।সোহেল এ সময় নিজেকে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) পরিচয় দেয়।এক পর্যায়ে সোহেলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ভিডিও কলে ওই নারীর (গৃহবধূর) নগ্ন ভিডিও ধারণ করে সোহেল।এই নগ্ন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গৃহবধুকে ধর্ষণ করে।
হারাগাছ মেট্রোপলিটন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুরুজ্জামান কবির বলেন, পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ধর্ষক সোহেল নিজেকে পুলিশের এসআই পরিচয় দিয়েছিলো কি-না তা তদন্তে জানা যাবে। তাকে বুধবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ধর্ষিতার শারীরিক পরীক্ষার জন্য মামলার বাদীকে মঙ্গলবার রাতে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে।তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের হারাগাছ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম বলেন, ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে নির্যতিতা নারী সোহেলকে আসামি করে মামলা করেছেন।
এম২৪নিউজ/আখতার