রংপুরে মঙ্গল শোভা যাত্রার মধ্যদিয়ে দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জন

রংপুর অফিস:

রংপুর জেলার আট উপজেলায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হয়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ শারদীয় দুর্গোৎসব।বিজয়া দশমীতে ঢাক-ঢোল, খোল ও ভুভুজেলা বাজিয়ে দেবীকে বিদায় জানানো হয়। এ বছর জগতের মঙ্গল কামনায় গজে (হাতি) চড়ে মর্ত্যলোকে (পৃথিবী) এসেছিলেন দেবীদুর্গা। বিদায় বেলায় স্বামীগৃহে ফিরলেন নৌকায় চড়ে। দুর্গার আগমন ও বিদায়ে জগতের কল্যাণ সাধিত হবে, এমনটাই বিশ্বাস সনাতন ধম্বালম্বীদের।

বুধবার বিকেল থেকে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি।দেবী ভক্তদের চোখের জলে দেবীদূগার বিদায় ক্ষণে দেশের সমৃদ্ধ কামনা করা হয়। সকাল ১০টার মধ্যে দশমীবিহিত পূজা সমাপন ও দর্পণ বিসর্জন দেয়া হয়। দেবী দূর্গার সিঁথিতে সিঁদুর পরানো ও মিষ্টি মুখ করানো শেষে মন্ডপে আগত নারীরা একে অপরের সিঁথি, গারে-মুখে সিঁদুর ছোয়া বিনিময় করেন।

বিকেল সাড়ে চারটা থেকে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রাকে ও পিকআপ ভ্যানে করে প্রতিমা বিসর্জন যাত্রায় অংশ নিতে রংপুর কালেক্টরেট সুরভি উদ্যানের সামনে আসেন ভক্ত ও অনুসারীরা। পূজা উদযাপন পরিষদ রংপুর জেলা ও মহানগরের আয়োজনে শুভ বিজয়ার বর্ণাঢ্য একটি মঙ্গল শোভাযাত্রা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

রংপুরের জেলা প্রশাসক আসিব আহসান এর আগে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রংপুর সিটি করর্পোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মেনহাজুল আলম, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিউর রহমান সফি, সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডল,বাংলার চোখের চেয়ারম্যান তানবীর হোসেন আশরাফী।

রংপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অজয় প্রসাদ বাবনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার রায়ের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি হারাধর রায় হারা, সাধারণ সম্পাদক ধীমান ভট্টাচার্য্য।

বিজয়ার শোভাযাত্রা শেষে নগরীর মুলাটোল দীঘিরপাড়, ডিমলা কালি মন্দির দীঘিরপাড়, ঘাঘটসহ বিভিন্ন এলাকায় দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়। রাতে দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জন শেষে ভক্তরা শান্তি জল গ্রহণ করেন।

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply