
স্টাফ রিপোর্টার (রংপুর):
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় স্ত্রী সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছে স্বামী। লোমহর্ষক এ ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার রাতে উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের বালাপাড়া গ্রামে।
শনিবার সকালে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এলাকাবাসী জানায়, ওই গ্রামে পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে হাফিজুল ইসলাম(৩০) তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম(২৫)ও ১৮ মাসের কন্যা সন্তান হোমায়রাকে গলা কেটে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেছে। শনিবার সকাল ১০টার দিকে বিষয়টি জেনে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। নিহতরা হলেন, হাফিজুল ইসলাম (৩০), তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম (২৫) এবং তাদের দেড় বছরের শিশুকন্যা হুমায়রা।
পরে গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুশান্ত কুমার সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এটি এম আরিফ ও গংগাচড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাসলিমা বেগম খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে, তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।
বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়, ৭ বছর আগে উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নের সরকার গ্রামের মোরশেদ আলমের মেয়ে ফাতেমার সাথে হাফিজুল এর বিয়ে হয়।আরোও জানা যায় তাদের দাম্পত্য জীবনে প্রায় ঝগড়া লেগেই থাকত। এর কারণ হচ্ছে হাফিজুল কাজকর্ম না করে বাড়িতে বসে থাকতো।এনিয়ে মাঝেমধ্যেই সে স্ত্রীর সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হতো।গতকাল ও তাদের মধ্যে ঝগড়া হয় এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতে স্ত্রী সন্তানকে হত্যা করে নিজে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে ফাতেমার মা বাবা অভিযোগ করেন, মেয়ের জামাই মাঝেমধ্যেই টাকার জন্য আমার মেয়েকে মারধর করে আমার বাড়িতে পাঠিয়ে দিত টাকা নেয়ার জন্য। মেয়ের বাবা মোরশেদ আলম জানান আমার মেয়ে জামাইকে তাদের পরিবারের লোকজন সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করে সবাই বাড়ি থেকে পালিয়েছে।আমি এর সুষ্ঠু বিচার দাবী করি।
ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আফজালুল হক রাজু জানান, শনিবার সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফাতেমা ও তার মেয়ের গলায় কাটা যাওয়া দাগ অবস্থায় মরদেহ বিছানায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। শুক্রবার রাতের কোনো এক সময় পারিবারিক বিরোধের জেরে স্বামী তার স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে ধারালো কিছু একটা দিয়ে গলাকেটে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুশান্ত কুমার সরকার আলোকিত সকাল কে জানান ঘটনাটি শুনতে পেয়ে আমরা ঘটনা ঘটনাস্থলে এসে দেখি মা ও মেয়ের লাশ বিছানার উপর এবং হাফিজুলের লাশ ঘরে তীরে ঝুলছে। আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করতেছি পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী সন্তানকে হত্যা করে হাফিজুল নিজে আত্মহত্যা করে।তিনি আরও জানান লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে এর রিপোর্ট হাতে পেয়ে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আমরা এর পরবর্তী ব্যবস্থা নিব।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাসলিমা বেগম জানান ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক ঘটনাটি আসলে কী ঘটেছে। সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে আমরা এর মূল ঘটনা উদঘাটন করতে পারব বলে আশা করছি।
এম২৪নিউজ/আখতার।