
স্টাফ রিপোর্টার (রংপুর):
রংপুরে খাদ্য বিভাগ চলতি মৌসুমে ধান চাল সংগ্রহ অভিযান পুরোপুরি ব্যার্থ হয়েছে। রংপুর খাদ্য বিভাগের জেলা ও উপজেলা গুদাম খাদ্য কর্মকর্তাদের দুর্নিতী সেচ্ছাচারিতা সহ নানান কারনে সংগ্রহ অভিযান ব্যার্থ হয়েছে বলে অভিযোগ কৃষক মিল মালিক ও কৃষক সংগঠন নেতাদের। কৃষকরা যাতে তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মুল্য পান সে জন্য কৃষকদের কাছে সরাসরি ধান কেনার খাদ্য বিভাগের নির্দ্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুগুলি দেখিয়েছে জেলা খাদ্য বিভাগ।
রংপুর জেলার ৮ উপজেলায় ধান সংগ্রহ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করে দিয়েছিলো খাদ্য বিভাগ ২৪ হাজার ১শ ৮ মেট্রেক টন। সেখানে ধান কেনা হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৯শ ২০ দশমিক ৫৬০ মেট্রিক টন। চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ২৯ হাজার ২শ ৭৬ মেট্রিক টন সেখানে কেনা হয়েছে ১৪ হাজার ৬১৩ দশমিক ৬৭৫ মেট্রিক টন। আতপ চাল কেনার লক্ষ্য মাত্রা ছিলো ৪৯৩ টন, কেনা হয়েছে মাত্র ১৮ মেট্রিক টন। সবচেয়ে কম ধান কেনা হয়েছে মিঠাপুকুর উপজেলায় মাত্র ২৪ টন। তারাগজ্ঞে ২৫ কাউনিয়ায় ৪৩ এবং সদর উপজেলায় ১শ ২০ মেট্রিক টন।
সাধারন কৃষকদের অভিযোগ রংপুর সদর উপজেলা সহ ওই তিনটি উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তারা কৃষকরা ধান নিয়ে খাদ্য গুদামে গেলে তারা ধানের মান ভালো নয় অজুহাত দেখিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা বসিয়ে রেখে ধান সহ কৃষকে ফেরত দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
রংপুর জেলা খাদ্য কর্মকর্তার দপ্তর সুত্রে জানা গেছে, রংপুর জেলায় ধান সংগ্রহ করার অভিযানের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ২৪ হাজার ১০৮ মেট্রিক টন। এর মধ্যে রংপুর সদর উপজেলায় ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ২ হাজার ৮৮৮ মেট্রিক টন কেনা হয়েছে মাত্র ১শ ২০ দশমিক ৩২০ মেট্রিক টন। বদরগজ্ঞে লক্ষণ্যমাত্রা ছিলো ৩ হাজার ১৬৬ মেট্রিক টন কেনা হয়েছে মাত্র ৩শ ৫৬ টন, মিঠাপুকুরে ৬ হাজার ৬শ ৫৯ মেট্রিক টন কেনা হয়েছে মাত্র ২৪ টন।
পীরগজ্ঞ উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৩ হাজার ২শ ৮৭ টন কেনা হয়েছে মাত্র ৬৫৪ মেট্রিক টন। তারাগজ্ঞ উপজেলায় ১০ ১৭ মেট্রিক টন কেনা হয়েছে মাত্র ২৫ টন। গঙ্গাচড়ায় লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ২ হাজার ১৭৬ মেট্রিক টন কেনা হয়েছে ২শ মেট্রিক টন। অন্যদিকে কাউনিয়ায় লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১ হাজার ৫শ ৭ মেট্রিক টন কেনা হয়েছে মাত্র ৪৩ মেট্রিক টন।পীরগাছায় ৩ হাজার ৫শ ৬ টন ছিলো লক্ষ্যমাত্রা কেনা হয়েছে মাত্র ৪শ ৯৭ মেট্রিক টন। অন্যদিকে রংপুরের ৮ উপজেলায় চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ২৯ হাজার ২শ৭৬টন। কেনা হয়েছে মাত্র ১৪ হাজার ৬শ ১৩ মেট্রিক টন।
জেলা খাদ্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন এ জন্য রংপুর জেলার ৮শর বেশী অটোমেটিক রাইস ও হাসকিং মিলের সাথে চুক্তি করেছিলো জেলা খাদ্য বিভাগ।অথচ দীর্ঘ ৫ মাস অতিবাহিত হবার পরেও চুুক্তিবদ্ধ মিলাররা চাল সরবরাহ করতে পারেনি। রংপুরের সদর উপজেলায় চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৪ হাজার ২শ ৫৮ মেট্রিক টন কেনা হয়েছে ৩ হাজার ১শ ৯২, বদরগজ্ঞে ২ হাজার ২শ ৯৭ কেনা হয়েছে মাত্র ৭শ টন। মিঠাপুকুরে ৬ হাজারে ৪শ ৮১ টন ছিলো চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা কেনা হয়েছে ২ হাজার ৫৭০ মেট্রিকটন। পীরগজ্ঞে ৭০৮৮ টনের বিপরীতে কেনা হয়েছে ৩ হাজার ৬৯৬ মোট্রকটন। তারাগজ্ঞে ৩ হাজার ৩৩০টন কেনা হয়েছে ১ হাজার ৬শ ৮ মেট্রিক টন। গঙ্গাচড়ায় ১ হাজারে ৪৪৩ মেট্রিক টনের বিপরীতে কেনা হয়েছে ৯০৩ মেট্রিক টন। কাউনিয়ায় ১৯৩৩ মেট্রিক টনের বিপরীতে কেনা হয়েছে মাত্র ৭৮৬ টন এবং পীরগাছায় ২ হাজার ৫৪৬ মেট্রিক টনের বিপরীতে কেনা হয়েছে ৪৯৭ মেট্রিক টন।
চাল সংগ্রহ অভিযান কম হওয়ায়র জন্য মিলাররা দায়ি করেছে নাম সর্র্বস্ব হাসকিং মিল , অটোমেটিক রাইস মিল যাদের ক্ষমতার অতিরিক্ত বরাদ্দ নিয়েছে। সেই সাথে বাজারে ধানের দাম বেশী হওয়ায় এবার মিলাররা চাল দিতে পারেনি। তবে নাম প্রকাশে অনিশ্চুক কয়েকজন মিলার অভিযোগ করেন প্রতিবার ধান চাল সংগ্রহ অভিযান শুরুর সময় জেলা খাদ্য কর্মকর্তা সহ উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তারা যাদের কাগজ কলমে হাসকিং মিল আছে বাস্তবে নেই এ রকম অনেক মিলারের সাথে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে চুক্তি করার ফলে এবার চাল সংগ্রহ অভিযান ব্যার্থ হয়েছে। এ জন্য পুরো জেলা খাদ্য বিভাগই দায়ি বলে অভিযোগ তুলেছেন বিজ্ঞ কৃষকরা ।
এদিকে কিছু মিলাররা অভিযোগ করেছেন, এবার বাজারে ধানের দাম একটু বেশী ছিলো ঠিক কিন্তু এ দামেই চাল দেয়া যেত। কিন্তু খাদ্য কর্মকর্তাদের কেজি প্রতি ঘুষ দিতে হয়ং এবং আনুসাঙ্গিক খরচের কারনে চাল দেয়া যায়নি। আর ভুয়া হাসকিং মিলাররা এবার দাম বেশী হওয়ায় তারাও চাল দেয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
এ ব্যাপারে রংপুরের বিশিষ্ট ক্ষেত মজুর নেতা সিপিবির উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা শাহাদত হোসেন অভিযোগ করেন, খাদ্য বিভাগ কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কিনতে চাননা আমরা এর আগেও অভিযোগ করেছি কাজ হয়নি।
জেলা খাদ্য কর্মকর্তা আব্দুল কাদেরের সাথে সাংবাদিকরা যোগাযোগ করলে তিনি স্বীকার করেন এবার ধান সংগ্রহ হয়নি এটা ঠিক, অন্যদিকে চালও সংগ্রহ হয়নি। আমরা চুক্তিবদ্ধ মিলারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো বলে জানান তিনি।
এম২৪নিউজ/আখতার