তারাগঞ্জে গণপিটুনিতে জামাই-শ্বশুরের মৃত্যু, বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ

অনলাইন ডেস্ক:

রংপুরের তারাগঞ্জে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা (ভ্যান) চোর সন্দেহে জামাই ও শ্বশুরকে গণপিটুনিতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় বিচারের দাবিতে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কে মরদেহ নিয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা। রোববার (১০ আগস্ট) রাত ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অনুরোধ করলে- অবরোধ সরিয়ে নেন স্থানীয়রা।

এই ঘটনায় দুপুরে নিহত রুপলালের স্ত্রী মালতী রাণী দাস থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন । এর আগে গতকাল শনিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বটতলানামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- রুপলাল দাস (৪০) ও প্রদীপ দাস (৪৫)। তারা সম্পর্কে জামাই-শ্বশুর। রুপলাল দাসের ভাগনি জামাই প্রদীপ দাস। রুপলাল তারাগঞ্জ বাজারে জুতা সেলাইয়ের কাজ করতেন।

তারাগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত মো. আমিরুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, নিহত রূপলালের মেয়ের শ্যামপুর এলাকার লালচাঁদ দাসের ছেলের সঙ্গে বিয়ের জন্য রোববার তারিখ নির্ধারণের কথা ছিল। বিয়ের সমন্ধে কথার বলা জন্য ভাগ্নির জামাই প্রদীপ দাস মিঠাপুকুর থেকে নিজের অটোরিকশার চালিয়ে রুপলালের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথ ভুলে সয়ার ইউনিয়নের বটতলানামক স্থানে পৌঁছে রূপলালকে ফোন করে বলেন, সে পথ ভুলে গেছে। সেখানে দুটি সড়কের মোড় একটি গেছে বুড়ীরহাট অপরটি কাজীরহাট। তাই রুপনাল তাকে সেখানে থাকতে বলেন, এরপর রুপলাল সেখানে গিয়ে জামাইয়ের সঙ্গে দেখা করেন। পরে তারা একই অটোরিকশা চড়ে উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের ঘনিরামপুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে বাড়ির (রুপলালের) উদ্দেশ্যে রওনা হন।

পরে রাত ৯টার দিকে তারা যখন তারাগঞ্জ-কাজীরহাট সড়কের বটতলা এলাকায় আসেন, তাদেরকে ভ্যান চোর সন্দেহে স্থানীয়রা আটক করেন। এরপর লোকজন জড়ো হওয়ায় পরিস্থিতি উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে প্রদীপ দাসের অটোরিকশায় থাকা বস্তা থেকে চারটি প্লাস্টিকের ছোট বোতল বের করেন স্থানীয়রা। এর একটি বোতল খুললে ভেতরে থাকা তরলের ঘ্রাণে অসুস্থ হয়ে পড়েন পাশারিপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক আলমগীর হোসেন ও বুড়িরহাটের মেহেদী হাসান। এতে লোকজনের সন্দেহ আরও বৃদ্ধি পায়।

তাদের ধারণা, এরা অজ্ঞান করে ভ্যান চুরি করে। এই সন্দেহে তাদেরকে মারধর শুরু করেন স্থানীয়রা। তাদেরকে বটতলা থেকে মারতে মারতে বুড়িরহাট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে নিয়ে আসা হয়। সেখানেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তারা অচেতন হলে সেখানে ফেলে রাখা হয়। পরে রাত ১১টায় তাদের উদ্ধার করে পুলিশ তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রূপলাল দাসকে মৃত ঘোষণা করা হয়। প্রদীপ দাসকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রোববার ভোররাতে তারও মৃত্যু হয়। 

স্থানীয়দের ধারণা, বোতলগুলোতে চোলাই মদ জাতীয় কিছু একটা ছিল। নিহতের আত্মীয় স্বজনদের ভাষ্যমতে বোতলে চোলাই মদ ছিল।

তারাগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম.এ.ফারুক জানান, ‘গণপিটুনিতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত রুপনালের স্ত্রী মালতী রাণী দাস বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনা তদন্ত অব্যাহত আছে।’ তথ্যসূত্র: ইত্তেফাক অনলাইন

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply