পীরগঞ্জে পুলিশ-গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনায় ৫ পুলিশ ক্লোজড

নিউজ ডেস্ক:

রংপুরের পীরগঞ্জের ভেন্ডাবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের হাজতখানায় এক আসামির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা তদন্ত কেন্দ্রটি ঘেরাও করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৩৩ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়লে ২৫ জন গুলিবিদ্ধ হন। অপরদিকে জনতার ইট-পাটকেলের আঘাতে আট পুলিশ আহত হন।

এ ঘটনায় তদন্ত কেন্দ্রটির ইনচার্জ (আইসি) আমিনুল ইসলামসহ পাঁচ পুলিশকে ক্লোজড করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রংপুরের এসপি, অতিরিক্ত এসপি, সার্কেল অফিসারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

আরো পড়ুন: পীরগঞ্জের ভেন্ডাবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে আসামির রহস্যজনক মৃত্যু, পুলিশ-জনতা সংঘর্ষ

পুলিশ, এলাকাবাসী এবং ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা গেছে, পীরগঞ্জের ভেন্ডাবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রটি পীরগঞ্জে পাঁচটি ইউপির আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। তদন্ত কেন্দ্রটির ইনচার্জ (আইসি) আমিনুল ইসলাম যোগদানের পর থেকেই তিনি আটক বাণিজ্য শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়াও নানা হয়রানি করে ওই আইসি সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে আসছিলেন। তার (আইসি) ওই অনৈতিক কাজের জন্য রংপুর সদরের পাগলাপীরের সোর্স জিয়াউর রহমানসহ ওই এলাকার বেশ কয়েকজনকে মৌখিকভাবে সোর্স নিয়োগ করে।

তাদের দ্বারাই এলাকাবাসীকে হয়রানি করে আসছে বলে জানা গেছে। এভাবে দিন দিন ক্ষোভে ফুঁসে উঠে ওই এলাকার বিভিন্ন শ্রেণির পেশাজীবীসহ সাধারণ মানুষ।

এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার বড়দরগা নামক স্থান থেকে পার্শ্ববর্তী মিঠাপুকুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউপির শান্তিপুর গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে শামছুল ইসলামকে চোলাই মদ সেবনের অভিযোগে তদন্ত কেন্দ্রটির পুলিশ আটক করে থানায় আনে।

আরো পড়ুন: মিঠাপুকুরে বৃদ্ধকে দিনভর আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

ঘটনার রাতে শামছুলের পরিবারের সঙ্গে তদন্ত কেন্দ্রের আইসি যোগাযোগ করে মোটা অংকের টাকা দাবি করে। এরপর বুধবার সকাল ৮টার দিকে হাজতে পরিবারের লোকজন আটক শামছুলকে দেখতে আসে।

এ সময় আইসি তাদের জানান, টাকা দিলে তার বিরুদ্ধে (শামছুল) মামলা দিবে না। এতে অসহায় হয়ে পড়ে শামছুলের পরিবার। একপর্যায়ে সকাল ৯টার দিকে শামছুল তার গায়ে থাকা ফতুয়া দিয়ে হাজতের জানালার গ্রিলের সঙ্গে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে পুলিশ জানায়।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ভেন্ডাবাড়ী এবং মিঠাপুকুরের লোকজন এসে থানা ঘেরাও করে। এ সময় উপস্থিত জনতাকে শান্ত করতে রংপুরের সার্কেল ডি অফিসার অতিরিক্ত এসপি হাফিজুর রহমান মাইকে কথা বলেন।

কিন্তু আইসির অত্যাচারে অতিষ্ঠ মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। এ সময় পুলিশ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে ৩৩ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়লে কলোনিবাজারের কাদের মিয়া, চকবরখোদার তরিকুল ইসলাম, পাকুরিয়ার রনি মিয়াসহ ২৫ জন গুলিবিদ্ধ হন।

অপরদিকে জনতার পাটকেলের আঘাতে পুলিশের সার্কেল ডি এএসপি হাফিজুর রহমান, থানার ওসি সরেস চন্দ্রসহ আট পুলিশ সদস্য আহত হন। ওই ঘটনায় আইসি আমিনুল ইসলাম, এএসআই হরিদাসসহ পাঁচ পুলিশকে ক্লোজড করা হয়েছে।

রংপুরের এসপি বিপ্লব কুমার সরকার উপস্থিত সাংবাদিক ও শত শত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, ঘটে যাওয়া ঘটনা ও উদ্ভূত পরিস্থিতির সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

আরো পড়ুন: তিস্তা সেতুর মেয়াদোত্তীর্ণের ১৮ বছর, ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছে ১৮ ট্রেন

তিনি আরো বলেন, হাজতে যিনি (শামছুল হক) মারা গেছেন, তার ব্যাপারে তদন্ত করা হবে। তিনি মাদকসেবী কি না, কেন আত্মহত্যা করলেন, সেটাও দেখা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়েই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঘটনার সঙ্গে পুলিশ জড়িত হলেও ছাড় দেয়া হবে না।

এ সময় উপস্থিত জনতা তদন্ত কেন্দ্রটির আইসি আমিনুলের কথিত সোর্স রংপুরের পাগলাপীরের জিয়াউর রহমান জিয়ার ব্যাপারে শত শত অভিযোগ তুলে ধরলে এসপি অনতিবিলম্বে তাকে গ্রেফতারের জন্য নির্দেশ দেন। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে মামলার খবর পাওয়া যায়নি।

সূত্র: ডেইলী বাংলাদেশ।

One thought on “পীরগঞ্জে পুলিশ-গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনায় ৫ পুলিশ ক্লোজড

Leave a Reply