
রংপুর অফিস:
রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি দলগত ভাবে তাদের সমর্থন না দেওয়ায় স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্ডিদ্বতা করছে।
রংপুরের পীরগাছার আট ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সাতটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। দলগুলো হলো আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জাসদ, ইসলামী আন্দোলন, জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ কংগ্রেস। এ ছাড়া কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। সব মিলে চেয়ারম্যান পদে ৪৩ জন প্রতিদ্বন্ডিতা করছেন।বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে ইউপি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়েছিল। তবে রংপুরের পীরগাছায় বিএনপি নেতাকর্মীরা স্থানীয় জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা করে প্রার্থী দিয়েছেন।উপজেলার আট ইউনিয়নের মধ্যে চারটিতে বিএনপি এবং দুটিতে জামায়াত প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন।
জানা গেছে, ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন এসব প্রার্থী। তবে কাগজ কলমে স্বতন্ত্র প্রার্থী তারা। আসন ভাগাভাগির পর সেখানে একে-অপরের বিরুদ্ধে প্রার্থী দেয়নি।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পারুল ইউনিয়নে তোফাজ্জল হোসেন, ইটাকুমারী ইউনিয়নে আবুল বাশার, অন্নদানগর ইউনিয়নে আমিনুল ইসলাম, ছাওলায় আব্দুল হাকিম, তাম্বুলপুরে শাহীন সরদার, পীরগাছা সদর জাহাঙ্গীর আলম জালাল, কৈকুড়ীতে শফিকুল ইসলাম লেবু ও কান্দি ইউনিয়নে আমিনুল ইসলাম রাজ্জাক নৌকার প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন।
দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে পারুল ইউনিয়নে আবুল কালাম আজাদ, অন্নদানগরে আনোয়ার হোসেন, ছাওলায় আব্দুস ছবুর আকন্দ, তাম্বুলপুরে নুরুজ্জামান সরকার, আবুল কালাম আজাদ, সোহরাব হোসেন মিঠু ও কান্দি ইউনিয়নে নজরুল ইসলাম খাঁন প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন।
বিএনপি প্রার্থীরা চার ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করছেন। এর মধ্যে অন্নদানগর ইউনিয়নে ইউনিয়ন সভাপতি জিল্লুর রহমান, ছাওলা ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা নাজির হোসেন, পীরগাছা ইউনিয়নে ইউনিয়ন সভাপতি মো. মোস্তাফিজার রহমান রেজা ও কান্দি ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সদস্য আব্দুস ছালাম আজাদ জুয়েল নির্বাচন করছেন।
কান্দি ইউনিয়নের আব্দুস ছালাম আজাদ জুয়েল জানান, তিনি বিএনপির রাজনীতি করেন না। বিএনপি প্রার্থী হিসেবে নয়, স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করছেন।
বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে অন্নদানগর ইউনিয়নে সাবেক ইউনিয়ন সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, ছাওলা ইউনিয়নে যুব দলের সাবেক সভাপতি শাহ মোঃ নুরে আলম ছিদ্দিকী ও কৈকুড়ী ইউনিয়নে ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছাইদুল ইসলাম চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন।
এ ব্যাপারে বিএনপির তিন বিদ্রোহী প্রার্থী জানান, বিএনপি দলগতভাবে তাদের সমর্থন না দেওয়ায় স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্ডিদ্বতা করছেন। সেই সঙ্গে বিএনপির বেশিরভাগ নেতাকর্মী তাদের সমর্থন দিয়েছেন।
একসময় পীরগাছা জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিত থাকলেও ইউপি নির্বাচনে আট ইউনিয়নের মধ্যে চারটিতে প্রার্থী দিয়েছে জাতীয় পার্টি। জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে ইটাকুমারীতে ইউনিয়ন কমিটির সদস্য সাইফুল ইসলাম সোহেল, তাম্বুলপুর ইউনিয়নে উপজেলা কমিটির প্রচার সম্পাদক শফিকুল ইসলাম লাভলু, পীরগাছা ইউনিয়নে উপজেলা কমিটির সদস্য রঞ্জু আলম ও কৈকুড়ী ইউনিয়নে ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি নুর আলম চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন।
দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে জাতীয় পার্টির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে কৈকুড়ী ইউনিয়নে বাবুল আক্তার চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্ডিদ্বতা করছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দুটি ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্ধিতা করছে। এর মধ্যে তাম্বুলপুর ইউনিয়নে জামায়াতের উপজেলা আমির বজলুর রশিদ মুকুল ও কৈকুড়ী ইউনিয়নে উপজেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিলন চেয়ারম্যান পদে।
এ ব্যাপারে উপজেলা জামায়াতের আমির ও তাম্বুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী বজলুর রশিদ মুকুল বলেন, আমরা স্থানীয়ভাবে বিএনপির সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচন করছি। বিএনপি যে চারটিতে প্রার্থী দিয়েছে সেখানে আমরা দিইনি। আমরা যে দুটি ইউনিয়নে প্রার্থী দিয়েছি সেখানে বিএনপি দেয়নি।তিনি বলেন, পীরগাছায় বিএনপি-জামায়াত জোট শক্তিশালী। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে আর নির্বাচন নিরপেক্ষ হলে ছয়টিতেই আমাদের প্রার্থীরা জয়ী হবে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লা আল মাহমুদ মিলন বলেন, বিএনপি-জামায়াত নির্বাচনি সভায় ২০ দলীয় জোট প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এটি নির্বাচনি আইনের পরিপন্থী। তারা যতই চালাকি করুক, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে।
উপজেলার আট ইউনিয়নে ৪৩ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী ছাড়াও ৩৪৮ জন সাধারণ সদস্য ও ১২৭ জন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন।
পীরগাছা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শোয়ায়েব হোসেন বলেন, উপজেলার আট ইউনিয়নের ৮১টি ওয়ার্ডের ১১৭টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হবে। ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৩৯ হাজার ২৯৯ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ১৭ হাজার ৯৩৬ জন এবং নারী ভোটার এক লাখ ২১ হাজার ৩৬৩ জন।
এম২৪নিউজ/আখতার