বাড়ছে করোনা রোগী, তবুও সচেতনতা নেই পীরগাছায়

নিউজ ডেস্ক:

রংপুরের পীরগাছায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। তবুও সচেতন হচ্ছে না স্থানীয় লোকজন। হাটবাজারে মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব। এখন দোকানপাট খুলে দেওয়ায় সংক্রমণ আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা।

গতকাল সোমবার (১১ মে) পর্যন্ত উপজেলায় পাঁচ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন পুলিশ সদস্য ও একজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিচ্ছন্নতা কর্মী রয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (১২ মে) সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার সর্বত্র দোকানপাট খোলা হয়েছে। ক্রেতাদেরও ভিড় বেড়েছে। কাঁচা বাজারে কয়েকশ লোক কেনাকাটা করছেন। সামাজিক দূরত্ব মেনে কাউকে কেনাকাটা করতে দেখা যায়নি। তাছাড়া অনেকে মুখে মাস্ক ছাড়াই বাজার করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১ মে উপজেলায় প্রথম দুজনের করোনা শনাক্ত হয়।আক্রান্তদের মধ্যে পীরগাছা থানায় কর্মরত এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও স্থানীয় এক নারী আছেন। তাদের তেমন কোন উপসর্গ ছিল না। পরে ৩ মে এক যুবকের (২৫) করোনা পজেটিভ আসে।

রবিবার (১০ মে) আরো দুজনের নমুনা পরীক্ষায় করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। তাদের মধ্যে একজন পুলিশ সদস্য ও অপরজন পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিচ্ছন্নতা কর্মী।পূর্বের আক্রান্ত পুলিশ পরিদর্শকের সংস্পর্শে থাকায় ওই পুলিশ সদস্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। আর পরিচ্ছন্নতা কর্মীর স্বামী আগেই করোনা পজেটিভ ছিলেন। সেজন্য তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। তিনি বর্তমানে মিঠাপুকুর উপজেলায় তার গ্রামের বাড়িতে চিকৎসাধীন রয়েছেন। আক্রান্ত দুই পুলিশ সদস্যকে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। বাকিরা নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, প্রথম আক্রান্ত ওই নারী বাড়িতে ছিলেন। তার বাড়িতে পরিবারের লোকজন ছাড়া অন্য কেউ যাতায়াত করেননি। উপ-পরিদর্শকও এক বছর ধরে এই থানায় কর্মরত। কীভাবে এই দুইজনের শরীরে কোভিড-১৯ পজেটিভ আসলো সেটি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না, কেননা কারোরই তেমন কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি। এদিকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন আক্রান্ত ওই যুবক।

পরদিন তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তিনি ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে পীরগাছার পাওটানা শাখায় ক্যাশিয়ার হিসেবে কর্মরত। তার বাড়ি পাশের মিঠাপুকুর উপজেলায়।  ক্যাশিয়ার হিসেবে কর্মরত। তার বাড়ি পাশের মিঠাপুকুর উপজেলায়।  তিনি পীরগাছায় ভাড়া বাসায় পরিবারসহ থাকেন। তবে তিনি মাঝে মাঝেই মিঠাপুকুর যাতায়াত করতেন।

করোনা রোগীর চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নাহিদ জামান বলেন, উপজেলায় উপসর্গহীন করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সর্বশেষ আক্রান্ত পুলিশ সদস্যেরও কোন উপসর্গ নেই। কিভাবে তিনি আক্রান্ত হয়েছেন তাও বলতে পারছেন না। তবে উপজেলার আক্রান্ত রোগীরা সুস্থ রয়েছেন।

সূত্র: বার্তা২৪।