
বদরগঞ্জ পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ-
স্টাফ রিপোর্টার (রংপুর):
রংপুরের বদরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র উত্তম কুমার সাহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, নানা অপকর্ম, নিয়োগ বাণিজ্য, কাউন্সিলরবৃন্দের সঙ্গে অসদাচরণ ও স্বেচ্ছাচারিতা করার বিরুদ্ধে সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়েছে।
আজ বুধবার (২৪ জুন) পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলররা একজোট হয়ে পৌরসভা হলরুমে সাংবাদিক সম্মেলন করে মেয়র উত্তমের দুর্নীতির বিচার দাবি করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ১১ জন কাউন্সিলর।
সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর খোকন কুমার দাস। এসময় উস্থিত ছিলেন কাউন্সিলর একরামুল হক, ইউনুস আলী, খায়রুল আনাম কোহিনুর, নীলকান্ত পাইকাড়, মিজানুর রহমান,তহিদুল ইসলাম বাবু, মোকছেদুর রহমান, মোকছেদুল আলম, আজিমা বেগম ও মিতু রানী দাস।
লিখিত বক্তব্যে খোকন কুমার দাস বলেন, গত ২০ জুন কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে বদরগঞ্জ পৌরসভার কর্মচারি নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করে মেয়র উত্তম কুমার সাহা চরম দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি প্রায় কোটি টাকা নিয়ে জামায়াত-বিএনপির সমর্থিত লোকজনকে চাকরীর সুযোগ করে দিয়েছেন। আবার নিয়োগ পরীক্ষায় যাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়, তারাই পেয়েছেন ওই নিয়োগ। অথচ মেধাবী কোন প্রার্থী ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আসতে পারেনি। এ নিয়ে মেয়রের এমন কৃতকর্ম নিয়ে পৌরসভা জুড়ে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ছয়জন কর্মচারি নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় তার একচ্ছত্র আধিপত্যের আঁড়ালে নানা অনিয়ম, অপকর্ম ও দুর্নীতির আসল রুপ এক এক করে উন্মেচিত হয়ে পড়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। অথচ পৌরসভার প্রতিষ্ঠাকালিন সময় থেকে খ-কালিন কর্মরত কর্মচারিদের উপেক্ষা করে কোটি টাকা নিয়ে অন্য প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগের বিষয়ে পৌর কাউন্সিলদের কোনভাবে মতামত চাওয়া হয়নি। এ জন্য আমরা তদন্ত পূর্বক দুর্নীতিবাজ মেয়র উত্তমের নানা অপকর্মের জন্য গোয়েন্দা সংস্থাসহ বঙ্গবন্ধুর কন্যা দেশরত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ ছাড়াও পৌরসভায় বর্তমানে দুর্নীতি ও অনিয়মের আঁখড়ায় পরিণত হয়েছে। পৌরসভা চত্বরের পাশে বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একটি ভবনসহ ১০ শতাংশ জমি রয়েছে। ওই জমিসহ প্রয়াত যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী আনিছুল হক চৌধুরীর নামে প্রতিষ্ঠিত পৌর শিশু পার্ক দখল করে নিজের পছন্দের দুইজন কর্মচারিকে দিয়ে খাবার হোটেল দিয়েছেন মেয়র উত্তম সাহা। পৌর ফুড কর্ণার (পিএফসি) নামে ওই হোটেল থেকে মেয়র প্রতি মাসে অবৈধভাবে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। যা পৌরসভার ভামুর্তিকে ক্ষুন্ন করেছে। সম্প্রতি করোনা ক্রান্তিকালে অসহায় মানুষকে ত্রাণ দেওয়া হয় প্রায় ৮০ হাজার টাকার। অথচ প্রায় ৬ লাখ টাকার বিল ভাউচার করে তিনি পুরো টাকা হাতিয়ে নিয়ে পকেটস্থ করেছেন।
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে ইউএনও অফিস থেকে প্রদান করা হয় প্রায় চার লাখ টাকা। ওই টাকার পুরোটাই তিনি আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়াও সরকার থেকে ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রায় ৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। সামান্য কয়েক লিটার ঔষধের সঙ্গে পানি স্প্রে করেই ওই বরাদ্দের পুরো টাকাই আত্মসাৎ করেছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে উল্লেখ্য করা হয় ‘১৯৯৯ সালে পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর থেকে মেয়র উত্তম কুমার সাহা একাই শাসন করে আসছেন। টানা ২১ বছরে পৌরসভায় একাধিক কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। দ্বিতীয় শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে অতিরিক্ত কর্মচারি কর্মরত রয়েছেন। তার ওপর নতুন করে আরো কর্মচারি নিয়োগ দিয়ে পৌরসভাকে পঙ্গু করার ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন মেয়র উত্তম সাহা। কাউন্সিলরেরা লিখিত বক্তব্যে বলেন, ছয় কর্মচারি নিয়োগের ভাগবাটোয়ারা পেয়েছেন মেয়র উত্তমের আস্থাভাজন একজন রাজনৈতিক নেতা। মুলত তার ইশারা-ইঙ্গিতেই মেয়র উত্তম সাহা নানা অপকর্ম করছেন।
আমরা মেয়রের দুর্নীতি, অপকর্ম, নিয়োগ বাণিজ্য, কাউন্সিলরবৃন্দের সঙ্গে অনৈতিক আচরন ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে পৌরকাউন্সিলরবৃন্দ একত্র হয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তার বিচার দাবি করছি।
সাংবাদিক সম্মেলন শেষে মেয়র উত্তম কুমার সাহা তাঁর কার্যালয় কক্ষে স্থানীয় সাংবাদিক সম্মেলন সম্পর্কে বলেন, পৌর কাউন্সিলরদের অভিযোগ ভিত্তিহিন, বানোয়াট। আমাকে হেয় করতে এর আগে তারা নানা জায়গায় অভিযোগ করে ব্যর্থ হয়েছে। কাউন্সিলরদের মধ্যে অনেকেই জামায়াত-বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। অথচ তারাই আমাকেসহ সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার পায়তারা করছেন বলে জানান তিনি।
এম২৪নিউজ/আখতার।