
নিউজ ডেস্ক:
রংপুরের বদরগঞ্জে আলোচিত শ্যামল চন্দ্র মহন্ত ওরফে নয়ন নামে এসএসসির ফল প্রত্যাশীকে নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কিশোর গ্যাংয়ের বিল্লাহ গ্রুপের চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার কথা আদালতে স্বীকার করেছেন তারা।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, বদরগঞ্জ পৌরশহরের ডিগ্রি কলেজ পাড়ার আকতার হোসেনের ছেলে আতিকুর ইসলাম আতিক(১৮), একই এলাকার সুবেদার হোসেনের ছেলে রাঙা মিয়া (১৮), জিন্নাত আলীর ছেলে জুলফিকার আলী (১৮) ও বাবু মিয়ার ছেলে সাগর(১৮)।
শনিবার রংপুর বিজ্ঞ হাকীমের আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দিতে রাঙা ও জুলফিকার অন্যান্য আসামিদের নিয়ে তুচ্ছ ঘটনার জেরে নয়নকে হত্যার কথা স্বীকার করে সাক্ষ্য দেন। পরে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়।
একটি সূত্রে জানা যায়, বিজ্ঞ আদালতে তারা স্বাক্ষ্য দিয়ে বলেন, ‘৬ বন্ধুর মধ্যে জুয়া খেলা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে অপর ৫ জন মিলে নয়নকে হত্যা করে লাশ তারই স্কুলের বারান্দায় ফেলে পালিয়ে যায়।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সকালে বদরগঞ্জ কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসির ফল প্রত্যাশী শ্যামল মহন্ত ওরফে নয়নকে হত্যা করে বাড়ির কাছে নিজ স্কুলের বারান্দায় রক্তাক্ত অবস্থায় লাশ ফেলে যায়। নয়ন এবারে ওই বিদ্যালয় থেকে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরীক্ষার ফলাফল এখনও প্রকাশ হয়নি। তার পিতার নাম নারায়ণ চন্দ্র মহন্ত। পুত্র হত্যায় শুক্রবার তিনি বদরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালিয়ে হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত চারজনকে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাত নয়টার দিকে নয়ন স্কুলের পাশে নিজ বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে রাতের খাবারের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় প্রতিবেশী জুলফিকার নামে এক যুবক কথা আছে বলে বাড়ি থেকে বাইরে ডেকে নিয়ে যায় নয়নকে। রাত গভীর হলেও সে আর বাড়ি ফিরে আসেনি। রাতে আশাপাশের এলাকায় তার খোঁজ নেন পরিবারের লোকজন। পরে নয়নের মোবাইল নম্বরে তার বাবা ২৭ বার কল করেন। সে আর ফোন রিসিভ করেনি। এতে উদ্বিগ্নতা বাড়ে পরিবারের মধ্যে। ওইদিন সকালে বাড়ির কাছে নিজ স্কুলের বারান্দায় রক্তাক্ত অবস্থায় তার লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পরিবারে খবর দেয়।
এদিকে অপর একটি সূত্র জানায়, বদরগঞ্জ পৌরশহরের কলেজপাড়া, বটপাড়া, জামুবাড়ী সর্দারপাড়াসহ আশপাশের এলাকার অল্প বয়সের কিছু কিশোরকে নিয়ে ‘বিল্লাহ’ নামে একটি কিশোরগ্যাং গড়ে তোলেন গ্রেপ্তার ফুলফিকার। তাদের মাস্টারমাইণ্ড রয়েছেন অপর একজন। তিনিও ওই হত্যা মামলারও আসামি। সঙ্গত কারণে পুলিশ তার নাম প্রকাশ করেনি। তিনি বর্তমানে পলাতক। এই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা গত দুই মাসের ব্যবধানে পৌরশহরে যাকে তাকে মারধর, চুরি ছিনতাইসহ অনেক অঘটন ঘটিয়ে আলোচনায় আসে বলে পুলিশ সূত্র জানায়।
বদরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) আরিফ আলী বলেন, ‘জুয়া খেলা নিয়ে বন্ধুদের মধ্যে কথা কাটাকাটির জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। ঘাতকরা নিহতের বুকে ৫টি ছুরি দিয়ে আঘাত করে। পরে টিউবয়েলের হাতল খুলে তার মাথায় আঘাত করে হত্যা নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। আজ বিজ্ঞ আদালতে তারা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় বলে নিশ্চিত করেন তিনি।
সূত্র: কালেরকন্ঠ।