শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে এসে ট্রেনে কাটা পড়ে জামাই নিহত

দ্রুত লাশ দাহ করায় শ্যালক আটক

নিউজ ডেস্ক:

রংপুরের বদরগঞ্জে শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে এসে ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছেন বিমল চন্দ্র রায় (৪০) নামে এক ব্যক্তি। তাঁর বাড়ি লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলার ভুল্লারহাট এলাকায়।

সোমবার (৯ জানুয়ারি) সকালে পার্বতীপুর-রংপুর রেললাইনের বদরগঞ্জ জামুবাড়ী পকিহানা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এদিকে, বদরগঞ্জ পৌরসভার মেয়রের নির্দেশে স্বজনদের না জানিয়ে তড়িঘড়ি করে লাশ দাহ করায় মৃতের শ্যালক শ্যামল চন্দ্রকে (৩৮) আটক করে রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি)।

রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, এক সপ্তাহ আগে লালমনিরহাট থেকে বদরগঞ্জের ডাঙ্গাপাড়ায় শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে আসেন বিমল চন্দ্র। আজ সোমবার সকালে বাড়ির পাশে রেললাইন ধরে হাঁটছিলেন তিনি। এসময় পার্বতীপুর থেকে ছেড়ে আসা রংপুরগামী ট্রেনের নিচে কাটা পড়েন বিমল।

খবর পেয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন লাশ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। মৃত বিমলের শ্যামল বিষয়টি জানান বদরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র উত্তম কুমার সাহাকে। মেয়র তাৎক্ষণিকভাবে লাশ দাহ করার নির্দেশ দেন। তড়িঘড়ি করে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ডাঙ্গাপাড়া শ্মশানঘাটে নিয়ে লাশ দাহ করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল আসে রেলওয়ে পুলিশ। তাদের অনুমতি না নিয়ে লাশ দাহ করার অভিযোগে শ্যামলকে আটক করে বদরগঞ্জ স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়।

আটক শ্যামল চন্দ্র বলেন, আমার ভগ্নিপতির মাথায় গণ্ডগোল ছিল। ধীর্ঘদিন ধরে তাঁর চিকিৎসা চলছে। ট্রেনে কাটা পড়লে সকালে মেয়র সাহেবকে জানাই। তিনি লাশ দাহ করার কথা বললে শ্মশানে নিয়ে দাহ করি। তবে স্বজনদের জন্য অপেক্ষা করার দরকার ছিল। এটি আমার ভুল হয়েছে।

ওই এলাকার কাউন্সিলর খোকন চন্দ্র দাস বলেন, সৎকার করার কিছু রীতিনীতি আছে। তা না করে মেয়রের অনুমতি নিয়ে লাশ দাহ করা ঠিক হয়নি।

রংপুর রেলওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক ইদ্রিস আলী বলেন, আমাকে অবগত করার পর লাশ উদ্ধার করতে এসে শুনি মেয়র সাহেব লাশ দাহ করার নির্দেশ দিয়েছে। পরিবারের লোকজনকেও অবগত করা হয়নি। এমনকি তাদের আসার আগেই লাশ দাহ করার ঘটনাটি রহস্যজনক বলে মনে হচ্ছে। এ কারণে নিহতের শ্যালক শ্যামলকে আটক করা হয়ছে।

বদরগঞ্জ স্টেশন মাস্টার নূর আলম বলেন, ঘটনাটি জানার পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জিআরপিকে অবগত করা হয়। কিন্তু তারা আসার আগেই লাশ দাহ করা হয়।

সূত্র: কালেরকন্ঠ।