
রংপুর অফিস:
রংপুরে আদিবাসী-সাঁওতাল ও বাঙ্গালীর প্রান্তিক জনগোষ্ঠি ৭ দফা দাবী বাস্তবায়নের দাবীতে বিভাগীয় কমিশনারকে স্বারকলিপি প্রদান ও বিক্ষোভ মিছিলকরেছে।
গাইবান্ধার সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির অয়োজনে গাইবান্ধার সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্মে আদিবাসী সাঁওতাল ও বাঙ্গালীর প্রান্তিক জনগোষ্ঠির পৈত্রিক সম্পত্তি ফেরত ও ক্ষতিপূরণ প্রদান সহ ৭ দফা দাবী বাস্তবায়নের দাবীতে আজ মঙ্গলবার দুপুরে প্রায় ৫০০/৬০০ শত আদিবাসী বাঙালী বংপুর বিভাগীয় কমিশনারকে স্বারকলিপি প্রদান করেন।
স্বারক লিপি গ্রহণকালে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার জনাব মোঃ আব্দুল ওয়াহাব ভূঞা বলেছেন যে, তিনি আদাবসী বাঙালীদের কষ্টের কথা জানেন এবং বিষয়টি তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌছে দেবেন।স্বারক লিপি প্রদান শেষে সংক্ষিপ্ত পথসভা ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয় নগরীর ডিসি মোড় থেকে শুরু হয়ে শাপলা চত্বরে শেষ হয়।
পথসভায় বক্তারা বলেন, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্মের ১৮৪২.৩০ একর নিতে দীর্ঘদিন যাবত আদিবাসী সাঁওতাল সম্প্রদায় বসবাস করত । তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকার ১৯৫৬ সালে মহিমাগঞ্জ রংপুর সুগার মিল প্রতিষ্ঠা করে।ফলে সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম এলাকার আদিবাসী ও বাঙালির ভোগদখলীয় ১৮৪২.৩০ এক জমি সুগার মিলের ইক্ষুচাষ ও ইক্ষু সরবরাহ করার জন্য রিকুইজিশন করে।
এজন্য ১৯৬২ সালে তৎকালীন সরকার সুগার মিলের ইক্ষুচাষ ও ইক্ষু সরবরাহ করার জন্য রিকুইজিশন করে । এজন্য ১৯৬২ সালে তৎকালীন সরকার একটি চুক্তিপত্র সম্পাদন করে। চুক্তিতে বলা হয়, যে কাজের জন্য ইক্ষুচাষ জমি রিকুইজিশন করা হয়েছে তা করা না হলে খেসারত সহ পূর্বমালিকদের কাছে ফেরত দিতে হবে। অথচ চিনি কল কর্তৃপক্ষ বা সরকার সেটা ফেরত দিচ্ছেনা।
বক্তারা আরো বলেন, ২০০৪ সালে রংপুর সুগার মিল বন্ধ ঘোষণা হলে মিল কর্তৃপক্ষ স্থানীয় প্রভাব শালীদের কাছে সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম এলাকার ১৮৪২.৩০ একর জমি অবৈধভাবে লিজ প্রদান করে। আদিবাসী-বাঙালিদের আন্দোলনের একপর্যায়ে মিল কর্তৃপক্ষ জমির অবৈধ লিজ বাতিল করতে বাধ্য হয়। তখন মিল কর্তৃপক্ষের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রভাবশালী কুচক্রীমহল যোগসাজস করে আদিবাসীদের বিরুদ্ধে জুলুম ও নির্যাতনের প্রক্রিয়া শুরু করে ।
গত ৬ নভেম্বর ২০১৬ মিল কর্তৃপক্ষ বেআইনী ভাবে (কোর্টের আদেশ ব্যতীত) আদিবাসীদের নির্মিত বসতবাডড়ি , ফসলাদি ও মৎস্যখারে পুলিশ , প্রশাসন সহ স্থানীয় প্রভাবশালী সন্ত্রাসীদের দ্বারা উচ্ছেদের নামে নিরীহ আদিবাসীদের উপর হামলা বসতবাডড়ি ভাংচুর, লুটপাট , অগ্নীসংযোগ এবং বর্বরোচিতভাবে গুলিবর্ষন করে। গুলিতে ও নির্যাতনে শ্যামল হেমরন , মঙ্গল মারডি ও রমেশ টুডু নিহত এবং অনেকেই গুরুত্বর আহত হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে চিহ্নিত ও পুলিশ এখনো গ্রেফতার হয়নি বা আইনের কাঠগড়ায় আনা হয়নি । উল্টো ৩/৪ ফসলী বন্যা মুক্ত উর্বর ও ফেরত যোগ্য কৃষি জমিতে শিল্প করখানা তথা ইপিজেড নির্মান প্রস্তাব বা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছ্ েযা অবিলম্বে বন্ধ করার আহবান জানান।
রংপুরের বাম গণতান্ত্রিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন। স্বারকলিপি প্রদান ও বিক্ষোভ মিছিলে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, কমরেড শাহাদাত হোসেন, সভাপতি সিপিবি,অশোক সরকার সম্পাদক, ওয়ার্কাস পার্টি, আব্দুল কুদ্দুস, আহবায়ক, বাসদ, কমরেড গৌতম , চিনু কবির, আহবায়ক, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, রংপুর মহানগর, সাজেদুল ইসলাম সাজু, সংগঠক, সিপিবি,অ্যাড. রায়হান কবীর, সদস্য, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, আহসানুল আরেফিন তিতু, সংগঠক, বাসদ (মার্কসবাদী), রংপুর ; বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ।
এম২৪নিউজ/আখতার