রংপুরে ইউপি নির্বাচনে নৌকার পরাজয়ের নেপথ্যে দলীয় কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থী

রংপুর অফিস:

রংপুরের তিন উপজেলার ১৩ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থীদের চেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পাল্লা ভারী হয়েছে। আওয়ামীলীগের দলীয় কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে নৌকার প্রতিক পাওয়া প্রার্থীরা ভোটে হেরেছেন বলে দাবি করেছেন আওয়ামীলীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। গত ২৮ নভেম্বও এই তিন উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রংপুর জেলার তিন উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন চারটিতে। বাকি নয়টির মধ্যে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র এবং একটিতে জাসদের (ইনু) প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।জেলার সবচেয়ে বিপর্যয় হয়েছে তারাগঞ্জ উপজেলায়। এই উপজেলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক হাড়িয়াল কুঠি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রায় তিন হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জাসদ প্রার্থী কুমারেশ রায়ের কাছে পরাজয় বরন করেছেন। উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের মধ্যে চারটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন।

জেলার কাউনিয়া উপজেলায় একইভাবে ছয় ইউনিয়নের তিনটিতে আওয়ামী লীগ এবং তিনটিতে বিদ্রোহী প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।রংপুর সদর উপজেলার মমিনপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।তৃণমূলের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের পরাজয়ের নেপথ্যে রয়েছে দলীয় কোন্দল, আর্থিক লেনদেন, ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতাদের মনোনয়ন না দেওয়া।

তারাগঞ্জ উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের মধ্যে কুর্শা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আফজালুল হক সরকার জয়ী হয়েছেন। বাকি চার ইউনিয়নের মধ্যে আলমপুর ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী রবিউল ইসলাম রাসেল, ইকরচালি ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী ইদ্রিস আলী, কুঠি ইউনিয়নে জাসদের (ইনু) প্রার্থী কুমারেশ রায় ও সয়ার ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী এবাদত হোসেন বিজয়ী হয়েছেন।

রংপুর সদর উপজেলার মমিনপুর ও খলেয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দুই বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে মমিনপুরে মিনহাজুল আবেদিন ও খলেয়ায় মোত্তালেবুল হক জয়ী হয়েছেন। দুই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা ভোটের ফলাফলে তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে রয়েছেন।কাউনিয়া উপজেলার ছয় ইউনিয়নের মধ্যে বালাপাড়া ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী আনসার আলী, সারাই ইউনিয়নে আশরাফুল ইসলাম ও শহীদবাগে আব্দুল হান্নান বিজয়ী হয়েছেন। পাশাপাশি টেপামধুপুরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রাশেদুল ইসলাম, হারাগাছে রাজু আহাম্মেদ ও কুর্শায় আব্দুল মজিদ বিজয়ী হয়েছেন।

তারাগঞ্জ ও কাউনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরাজিত হয়নি। পরাজিত হয়েছেন অর্থের বিনিময়ে মনোনয়ন নেওয়া কয়েকজন প্রার্থী।আওয়ামী লীগের তৃণমূলের কর্মী সালেন উদ্দিন ও বাবলু মিয়া জানান, কাউনিয়ায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা নারীদের কাছে ভোট চাননি। ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাননি। জোর করে ভোট নেওয়ার পরিকল্পনায় ছিলেন। অপরদিকে বিদ্রোহী প্রার্থীরা ভোট চেয়েছেন, বাড়ি বাড়ি গেছেন। তার জন্য দলীয় নেতারাও কাজ করেছেন। এজন্য বিদ্রোহীরা জয়ী হয়েছেন।

রংপুর সদর উপজেলায় জনপ্রিয় নেতাদের বাদ দিয়ে জন বিচ্ছিন্নদের মনোনয়ন দেওয়ায় বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে তৃণমূলের অধিকাংশ নেতাকর্মী কাজ করেছেন। এ জন্য নৌকার প্রার্থীরা হেরেছেন বলেও জানান আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাজু সাংবাদিকদের বলেন, তারাগঞ্জে আওয়ামী লীগের ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে। কাউনিয়া ও সদর উপজেলাতেও ভালো ফলাফল হয়নি। আমরা কিছু অভিযোগ পেয়েছি। উপজেলা পর্যায়ের কয়েকজন নেতা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেননি। সবকিছু মিলিয়ে অভিযোগের তালিকা চাওয়া হয়েছে। পুরো ঘটনা জানার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এম২৪নিউজ/আখতার

Leave a Reply