রংপুরে করোনা সন্দেহে অসুস্থ্য বাবাকে রাস্তায় ফেলে বাড়িতে ফিরলো ছেলে

নিউজ ডেস্ক:

করোনা সন্দেহে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ২৩ নং ওয়ার্ডের নিউ জুম্মাপাড়ার সুইপার কলোনি এলাকার বাসিন্দা আব্দুল জব্বার আলীকে (৭৫) অসুস্থ্য অবস্থায় স্থানীয় জলকর মোড়ে রাস্তায় ফেলে বাড়ীতে ফিরেছেন একমাত্র ছেলে সাব্বির। বৃদ্ধ জব্বার আলী পেশায় একজন ভিক্ষুক। অবশেষে প্রশাসনের লোকজন তাকে উদ্ধার করে অবার বাসায় রেখে আসেন।

এ বিষয়ে সাব্বিরের স্ত্রী নাসরিন বেগমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার শ্বশুর রংপুর কেরামতিয়া মসজিদের পাশে ভিক্ষা করেই পরিবার চালাতেন। তিনি দীর্ঘদিন যাবত ডায়াবেটিকস,স্বাসকষ্ট ও চর্মরোগ ভুগছেন। তার ডান পা ভাঙ্গা। এখন ওই পায়ে পোঁকাও ধরে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।এক পথিক ওনাকে কলোনিতে নিয়ে আসলে এলাকাবাসী করোনা সন্দেহে তাকে বাসায় ঢুকতে দেয়নি।

পরে আমার স্বামী (সাব্বিরের বাবা) জব্বার আলীকে জলকর মোড়ে রেখে বাড়িতে ফিরেন। স্থানীয় প্রশাসনের লোকজন তাকে পুনরায় বাড়িতে রেখে গেছেন। এখন পরিবারের সদস্যরা তার থেকে দূরে থাকছি কেননা তার শরীরে করোনা থাকতে পারে।

আব্দুল জব্বারের স্ত্রী ফাতেমা বেগম বলেন, বর্তমানে আলুসিদ্ধই আমাদের একমাত্র খাবার। এই পরিস্থিতিতে পঙ্গু ভিক্ষুক অসুস্থতায় শয্যাশায়ী। করোনা ভাইরাস সন্দেহে এলাকাবাসীও আমাদের থেকে দূরে থাকছেন।

এদিকে একই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল জলিল জানান, তিনিও পরিবারের তিন সদস্য নিয়ে একমাস যাবত আলুসিদ্ধ খেয়েই লকডাউন অতিবাহিত করছেন। করোনার কারণে স্ত্রী হাসি বেগমের স্থানীয় বাসাবাড়ির কাজটি বন্ধ হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে একবার মাত্র ৬ কেজি ত্রানের চাল পেয়েছি। তিনি আরোও বলেন এই মুহুর্তে ত্রাণ সহায়তা না পেলে মৃত্যু ছাড়া দ্বিতীয় কোনো রাস্তা নেই।

আরো পড়ুন: মিঠাপুকুরে নিখোঁজের একমাসেও সন্ধান মেলেনী প্রতিবন্ধী কিনা মিয়ার

স্থানীয় বাসিন্দা মো. কবির হোসেন বলেন, আমি ও ছোট ভাই বুলু মিয়া এই দুই পরিবারিকে আড়াই কেজি করে চাল দিয়েছি কিন্তু তাদের বাঁচাতে হলে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসতে হবে।

এদিকে, ভিক্ষুক আব্দুল জব্বার আলীর শরীরের অবস্থাও বেশ আশংকাজনক, এনিয়ে এলাকাবাসীদের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। ওই ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাপূর্বক তার চিকিৎসার জন্য জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী। -হাসান আল সাকিব।

এম২৪নিউজ/আখতার।