
রংপুর অফিস:
রংপুরে গৃহবধূ গণধর্ষণ মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক একজন আসামীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৩। শুক্রবার রংপুর মহানগরীর তাজহাট থানাধীন লালবাগ রেলগেট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গেপ্তার করেছে।
মামলার সূত্রে র্যাব-১৩ রংপুরের সহকারি পরিচালক (মিডিয়া) ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মাহমুদ বশির আহমেদ সাংবাদিকদের জানায়, ২০০৭ সালের ২৬ মে রংপুর মহানগরীর তাজহাট টিবি হাসপাতাল এলাকার বাসিন্দা এক গৃহবধূকে রিকশা থেকে নামিয়ে নগরীর খামার এলাকার পূর্ব দিকে গাছের নিচে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে।
গৃহবধূ ঐ সময় চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এসে আসাদুল নামে একজনকে আটকে করে এসময় অন্য সহযোগীরা পালিয়ে যায়। পরে এলাকাবাসী থানা পুলিশকে খবর দিলে আসামী আসাদুলকে গ্রেফতার করে। ঐ গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূ নিজে বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০২০) এর ৯(১)/৩০ ধারায় মামলা করেন।
পরবর্তীতে তদন্তকারী অফিসার ভিকটিমকে ডাক্তারি পরীক্ষা করে ধর্ষণের প্রমাণ পায়। মামলাটি তদন্ত কালে তদন্তকারী অফিসার ১০ ই সেপ্টেম্বর’ ২০০৭ ইং প্রধান আসামি মমিনুল ইসলাম বাবুসহ আসাদুল ইসলাম এবং রঞ্জু মিয়া এর বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।
দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে মামলাটির বিচারকার্য চলাকালে ১২ জন সাক্ষী বিজ্ঞ আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন। তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে বিজ্ঞ বিচারক আসামী বাবু, আসাদুল এবং রঞ্জু মিয়া’কে দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করেন।
মামলার রায় ঘোষনার সময় আসামী আসাদুল ও রঞ্জু মিয়া আদালতে উপস্থিত থাকলেও প্রধান আসামী বাবু পলাতক ছিল। মামলার রায় ঘোষনার পর থেকেই প্রধান আসামী মমিনুল ইসলাম বাবু বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে। আসামী বাবুর নামে উক্ত মামলা ছাড়াও ২টি ডাকাতির প্রস্তুতি, ২টি চুরি এবং ১টি মাদক মামালাসহ পৃথক ৫টি মামলার ওয়ারেন্ট রয়েছে।
র্যাব-১৩ রংপুরের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৫ই আগস্ট শুক্রবার রংপুর মহানগরীর তাজহাট থানাধীন লালবাগ রেলগেট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে গৃহবধূ গণধর্ষণ মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ১৫ বছরের পলাতক প্রধান আসামী নগরীর লালবাগ কে.ডি.সি রোড এলাকার আব্দুস সাত্তারের পুত্র মমিনুল ইসলাম বাবুকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এম২৪নিউজ/আখতার